স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:: গাজীপুর সিটিকে পরিকল্পিত, আধুনিক, টেকসই ও দুর্যোগ-সহনশীল নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে সিটি লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটির সভা এবং মূলধন বিনিয়োগ পরিকল্পনা, প্রস্তুতি কর্মশালা ও ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে সিটি কর্পোরেশন নাগরিক সম্পৃক্তকরণ নির্দেশিকা অনুযায়ী গঠিত সিটি লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটির সভার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। সভায় পরিচয় পর্ব, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট, সংশোধিত অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা, চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি এবং নগর উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করেন। তিনি আয়-ব্যয়ের সম্ভাব্য কাঠামো, উন্নয়ন ব্যয়ের অগ্রাধিকার, রাজস্ব আহরণের সম্ভাবনা এবং নাগরিক সেবার উন্নয়নে প্রস্তাবিত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। জুলাই মাসের যেকোনো সময় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন বলে সভায় জানানো হয়। পরে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন স্থিতিস্থাপক নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প, এলজিইডি এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে মূলধন বিনিয়োগ পরিকল্পনা, প্রস্তুতি কর্মশালা এবং ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্প, এলজিইডি-এর ও অ্যান্ড এম স্পেশালিস্ট ও টিম লিডার নুরুল আমিন তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মিজ তানজিলা খানম, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক আহাম্মেদ হোসেন ভূঁইয়া, নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ সাইফুর রহমান এবং সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ সানিউল কাদের।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে গাজীপুর মহানগরের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেন। আলোচনায় রাস্তাঘাট উন্নয়ন, পরিবেশ দূষণরোধ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন, গণপরিবহন, উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গাজীপুরকে একটি গ্রীন ও ক্লিন সিটি হিসাবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন বাস্তবসম্মত সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না। গাজীপুরকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সমন্বিত পরিকল্পনা ও অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছি।’ সিআইপি, সিআরএপি ও ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে গাজীপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উন্নয়ন রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মিজ তানজিলা খানম বলেন, ‘নাগরিকদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। আজকের কর্মশালায় প্রাপ্ত সুপারিশগুলো গাজীপুরের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং একটি স্মার্ট, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল নগর গঠনে সহায়ক হবে।’
কর্মশালায় নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ সাইফুর রহমান সিআইপি, সিআরএপি ও সিডিপির কারিগরি দিক এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন। এছাড়া সিএলসিসি টিম লিডার অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা, অগ্রাধিকারভিত্তিক বিনিয়োগ এবং টেকসই নগর উন্নয়নের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কর্মশালায় প্রাপ্ত মতামত ও সুপারিশ বিশ্লেষণ করে গাজীপুর মহানগরের জন্য একটি সমন্বিত, বাস্তবসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে, যা ভবিষ্যতের নাগরিক চাহিদা পূরণ এবং উন্নত নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কর্মশালায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।