স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:: জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিকে আটক করেও ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় গাজীপুরের গাছা থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গাছা থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবুলের হস্তক্ষেপের পরই পুলিশ আব্দুর রহিমকে ছেড়ে দেয়। বৈষম্যবিরোধী নেতাদের দাবি, সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও পুলিশকে হত্যার হুমকির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর সুযোগ থাকলেও তা করা হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতের জামিনে থাকায় আইনগত প্রক্রিয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সোমবার সন্ধ্যায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আব্দুর রহিমকে আটক করে। খবর পেয়ে গাছা থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। এরপরই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ও বৈষম্যবিরোধী নেতারা। তবে পুলিশের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম রব্বানী বলেন, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই আব্দুর রহিমকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে জানা যায়, তিনি আদালতের মাধ্যমে জামিনে আছেন। আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে হামলার অভিযোগ ছাড়াও সম্প্রতি মালেকের বাড়ি এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল এবং ওই মিছিল থেকে পুলিশকে মেরে ফেলার হুমকির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সেটি করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন। তাদের প্রশ্ন, যদি তিনি ওই মামলায় জামিনে থাকেন, তাহলে নতুন করে দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হলো না কেন।
এদিকে বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম বাবুলের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
আব্দুর রহিম অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কখনো আওয়ামী লীগ করিনি। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। সন্তান মানুষ করতে গিয়ে বর্তমানে রাজনীতি থেকে দূরে আছি।” ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন, জামিনে থাকা ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া; আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন বিষয়টি অন্য মামলার আলোকে যাচাই করা হলো না।