মো: মুর্শিকুল আলম, গাজীপুর :: টঙ্গীতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় চার দফা দাবি জানানো হয়। গতকাল রোববার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলেজ গেট এলাকায় শত শত শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এই কর্মসূচি পালনের সময় বাসের ধাক্কায় আলিফ (১৪) নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। আলিফ টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। তাকে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচি পালন করার সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশের সড়কে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী প্রতিদিন সড়ক পারাপার হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক পারাপারে ওই স্থানটিতে ফুট ওভারব্রিজ স্থাপন বা জেব্রা ক্রসিংয়ের দাবি জানিয়ে এলেও বিষয়টিতে নজর দেয়নি কর্তৃপক্ষ। ওই স্থানে সড়ক পারাপার কিংবা গণপরিবহনে উঠতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৮ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সকালে হোসেন মার্কেট এলাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানির নারী বিক্রয় কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুহাদ মাহমুদ ফাহিমের মৃত্যু হয়। এর প্রতিবাদে গত শুক্রবার বিকেলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়। পরে তারা আজ শত শিত শিক্ষার্থী নিয়ে এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়।
কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে মানববন্ধনে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে তারা চারটি দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো, টঙ্গীর চেরাগ আলী, কলেজগেট, হোসেন মার্কেট ও বড়বাড়ি এলাকায় স্পিডব্রেকার (গতিরোধক) স্থাপন; উল্লিখিত এলাকায় ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ, ওভারব্রিজ নির্মাণের আগপর্যন্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার; স্পিডব্রেকার (গতিরোধক) নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের মাঝের লেন বন্ধ রাখা।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শফিউদ্দিন সরকার একাডেমির শিক্ষার্থী আফসানা বিনতে মারিন বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার বাসচাপায় তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। প্রায়ই এই স্থানে কোনো না কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আমরা চার দফা দাবি জানিয়ে আজ মানববন্ধন করছি।’ টঙ্গী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফিরোজ লাভলু বলেন, ‘সমস্যাটি প্রায় এক দশকের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কখনো এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়নি। প্রায়ই ছাত্রছাত্রীরা আহত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে। আমরা মানববন্ধন শেষে সড়ক অপরাধ করি। পরে পুলিশ আমাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে যোগ দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির ঘরানার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সরকার শাহনূর ইসলাম রনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিএনপির বেশ কিছু নেতা-কর্মীও মানববন্ধনে অংশ নেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) দক্ষিণ মো. মাহবুব উজ-জামান বলেন, সকালে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছে।