আব্দুল কাদের, টঙ্গী:: বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (BHRC) গাজীপুর দক্ষিণ আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) টঙ্গী প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এ সময় গাজীপুর দক্ষিণ আঞ্চলিক শাখাসহ বিভিন্ন স্তরের শতাধিক মানবাধিকারকর্মী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর দক্ষিণ আঞ্চলিক শাখার সম্মানিত সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মেরাজ উদ্দিন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন-বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের গাজীপুর দক্ষিণ আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বারী চৌধুরী, সংগঠনের সহ সভাপতি মোঃ আব্দুল কাদের, সহ সভাপতি মোহাম্মদ বশির উদ্দিন, সহ সভাপতি মোঃ মনির হোসেন ভূইয়া, সহ সভাপতি মোঃ বিপুল, মানবাধিকার কর্মী মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ, মানবাধিকার কর্মী আনিসুল ইসলাম জীবন, মানবাধিকার কর্মী মোঃ কবির হোসেন, মানবাধিকার কর্মী মোহাম্মদ মাহবুব আলম চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী নিজাম উদ্দিন, মানবাধিকার কর্মী মোঃ রনি খান, মানবাধিকার কর্মী রেজাউল বারী প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, টঙ্গীর সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির বিষয়টি তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান, টঙ্গীতে প্রতিনিয়ত ছিনতাই, চুরি, মাদক, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনজীবনকে চরমভাবে ব্যাহত করছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বারী চৌধুরী বক্তব্যে বলেন, টঙ্গী ফ্লাইওভারের উঠানামা পথ বন্ধ করে দেওয়াতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,”রাস্তা বন্ধ করে নিরাপত্তা দেওয়া যায় না; বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম উন্নত করা জরুরি।” তিনি নিয়মিত টহল, সিসিটিভি স্থাপন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব মেরাজ উদ্দিন টঙ্গীর অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধিতে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,”চুরি, ছিনতাই ও অপকর্ম দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। যদি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে টঙ্গীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হয়, তবে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।” তিনি প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
সংগঠনের সহ সভাপতি বশির হোসেন মানবাধিকার কর্মীদের নৈতিক মূল্যবোধ জগ্রত সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের কার্যকারী পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন। মানবাধিকার রক্ষা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বাস্তবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব। বক্তারা মানবাধিকার কর্মীদের সাথে নিয়ে যৌথভাবে টঙ্গীর আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে সকল মানবাধিকার কর্মী টঙ্গীর মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষা এবং অপরাধ দমনে একযোগে কাজ করার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। মানবতার কল্যাণ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হোক আমাদের লক্ষ্য—এই প্রতিজ্ঞার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।