স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরে অটোরিকশা যাত্রী তামিম (২৫) হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার ও নগদ অর্থসহ দুইটি রেঞ্জ জব্দ করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলো গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ফলুদি মাঝুখান এলাকার বাসিন্দা মোঃ লোকমান সরকারের ছেলে মোঃ পলাশ সরকার (২৬) এবং মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি থানার চিতারা দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা আলী আকবরের ছেলে মোঃ আল আমিন (২১)। তাদের মধ্যে পলাশ টঙ্গীর আমতলী এলাকায় এবং আল আমিন স্থানীয় গোপালপুর এলাকায় ভাড়া থাকতো। সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা (দক্ষিণ) পুলিশের উপ-কমিশনার মো. ইব্রাহিম খান তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওইসব তথ্য জানিয়েছেন।
উপ-কমিশনার আবু তোরাব জানান, গত ২৬জুন রাত সাড়ে ৭টার দিকে তামিম ও সোহেল রানা (১৮) নামের দুই যাত্রী গাজীপুর মহানগরের পূবাইলের মীরের বাজার তালুটিয়া এলাকা থেকে অটোতে উঠে সাইনবোর্ড এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে টঙ্গী পূর্ব থানার আমতলী এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন দূর্বৃত্ত যাত্রীবেশে ওই অটোতে উঠে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী মারপিট ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তামিমের কাছ মোবাইল ফোন ও সোহেল রানার (১৮) কাছ থেকে ৮৫০ টাকাসহ তার বিকাশ একাউন্টে থাকা আরো ১হাজার ৮৯টাকাসহ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
তিনি আরো জানান, তামিম ও সোহেল রানার নিকট নগদ পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় দূর্বৃত্তরা তাদের উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমতলী থেকে ইজি বাইকটি ঘুরিয়ে তামিম ও সোহেল রানাকে মারধর করিতে করিতে শিলমুন স্পেশালাইজড্ হাসপাতালের পেছনে একটি অন্ধকার গলিতে নিয়ে যায়। পরে তারা তামিম ও সোহেল রানাকে ইজি বাইক থেকে নামিয়ে ডাল রেঞ্জ দিয়ে মারপিট করতে থাকে এবং ভিকটিমদের বাড়ী থেকে আরো টাকা বিকাশের মাধ্যমে আনার জন্য হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় ভিকটিম তামিম ফোন করলে তার পরিবারের লোকজন তােিমর সঙ্গে থাকা অপর ভিকটিম সোহেল রানার বিকাশ নম্বরে ১০হাজার টাকা পাঠায়। একপর্যায়ে তাদের মারধরে গুরুতর আহত ভিকটিম তামিম মারা যান। পরে তারা তামিমকে স্থানীয় রেল-লাইনের পাশে ফেলে রাখে এবং অপর ভিকটিম সোহেল রানাকে ইজি বাইকে তুলে নিয়ে তারা স্থানীয় শিলমুন সাবেদ টেলিকম নামের একটি বিকাশের দোকান থেকে ভিকটিম তামিমের পরিবার হইতে পাঠানো ১০হাজার উত্তোলন করে। পরে ভিকটিম সোহেল রানাকে ইজি বাইক হতে নামিয়ে দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অটোর চালক , অটো বা মোবাইল ফোন এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় নিহত তামিমের বাবা বাদী হইয়া টঙ্গী পূর্ব থানায় অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন আসামীদের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদা আদায়সহ খুন মামলা দায়ের করেন। পরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪হাজার টাকা, দুইটি রেঞ্জ জব্দ করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।