April 21, 2026, 3:58 pm

গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৬

Reporter Name
  • আপডেট Tuesday, April 21, 2026
  • 3 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:: গাজীপুর সদর উপজেলায় একটি সিরামিকস কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবিকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৬ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ডগরী (নয়াপাড়া) এলাকায় অবস্থিত প্যারাগন সিরামিকস লিমিটেড কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলো, রুমা (৩০), শিল্পী (৩৫), শারমিন (২২), তপোরা (৪০), আজিজুল হক (৩০) ও রেবা (৪৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মার্চ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা ফিডার রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে কারখানার প্রধান ফটক ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এ সময় শিল্পপুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করলে শ্রমিকরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগত আহত শ্রমিকদের বেশিরভাগ পায়ের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম ও ছিদ্র রয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে চেষ্টা করেও ডাক্তারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, টিয়ারসেল নিক্ষেপে শ্রমিকদের আহত করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কর বলেন, ‘মার্চ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা ফিডার রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে কারখানার প্রধান ফটক ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এ সময় শিল্পপুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করলে শ্রমিকরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্পপুলিশ টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’
এ ঘটনায় কতজন আহত জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘এখন আমি ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করছি, পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় ৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানা কর্তৃপক্ষের একজন জানান, গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় গ্যাস লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে উৎপাদন কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মালিকপক্ষ বেতন পরিশোধ করতে পারেন নি।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর