নিজস্ব প্রতিবেদক :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত এক মাসে সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, আন্তঃজেলা ডাকাত, ডেভিলসহ মোট ১১৭৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, স্বর্ণসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ৫টি ও মাদকদ্রব্য পরিবহনকালে ৬টি গাড়ি উদ্ধার করা হয়।শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্ত্রাসী নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান জেলায় যোগদানের পর ডিসেম্বরের শুরু থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এর আওতায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৪২৬ জন এবং অন্যান্য মামলায় ৭৫০ জনসহ ২১ জন আন্তঃজেলা ডাকাতও গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ৪টি পিকআপ ও ১টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়। ডিবি পুলিশের অভিযানে নোয়াখালী জেলা হতে ডাকাতি হওয়া ৫.৫ ভরি স্বর্ণ এবং ফেনী জেলা হতে ডাকাতি হওয়া ১০টি গরু উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৩টি বিদেশী পিস্তল, ১টি দেশী পিস্তল, ৪টি এলজি, ১টি পাইপগান, ২১ রাউন্ড গুলি, ৮ রাউন্ড কার্তুজ, ৩টি কাটার, ১টি ধামা, ২টি দা, ৪টি ছুরি/চাকু ও ১টি ছেনি।
উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৮০১ কেজি ২০২ গ্রাম গাঁজা, ৪৪বোতল ফেন্সিডিল, ৩২০ লিটার দেশি মদ, ১২ বোতল হুইস্কি, ৪৪ হাজার ৭৪৭ পিস ইয়াবা, ১২ ক্যান বিয়ার, ৫০ বোতল স্কার্প সিরাপ, ১০ বোতল বিদেশী মদ ও ১২ হাজার ৫০০ পিস ট্যাপেন্টডাল ট্যাবলেট। মাদক মামলায় গ্রেফতার করা হয়।১৮৫ জনকে। মাদক পরিবহনকালে ২টি ক্যাভার্ড ভ্যান, ২টি সিএনজি, ১টি পিকআপ ও ১টি বাস জব্দ করা হয়। অভিযানে আলোচিত জেলার চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, দেবিদ্বার এবং মহাসড়কের বেশ কয়েকটি ডাকাতের ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়। কুমিল্লা ডিবির এসআই পবিত্র সরকার, অর্ণব কুমার, তৌফিক আহমেদের নেতৃত্বাধীন ফোর্স এসব অভিযান পরিচালনা করেন।
কুমিল্লা ডিবির ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, অস্ত্রধারী ডাকাত, সন্ত্রাসী এবং নাশকতায় জড়িতদের গ্রেফতারে ডিবি পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। আমাদের সার্বিক কার্যক্রম গুলো পুলিশ সুপার মহোদয় মনিটরিং করে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী বলেন, গত এক মাসে ডিবি পুলিশ এবং জেলা পুলিশের অভিযানে মোট ১৩৮২জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।