October 19, 2026, 5:58 am

এআইয়ের সাফল্য: মাত্র ১২ মিনিটেই ব্রেইন টিউমার শনাক্ত

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, June 21, 2026
  • 113 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: জার্মান ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার, হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি এবং হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের গবেষকেরা একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেম তৈরি করেছেন, যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের টিউমার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই শ্রেণিবিন্যাস করতে পারে। এই সিস্টেমটির নাম হেটাইরোস। গবেষকদের দাবি, এটি সাধারণ মাইক্রোস্কোপে দেখা টিস্যু স্লাইড বিশ্লেষণ করেই কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ১০০টিরও বেশি মলিকুলার সাবটাইপ শনাক্ত করতে সক্ষম, যা নিউরো-অনকোলজি ডায়াগনসিসে বড় অগ্রগতি হিসেবে ধরা হচ্ছে। মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের টিউমার চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে জটিল ক্যান্সারগুলোর মধ্যে একটি। অনেক ক্ষেত্রে শুধু টিস্যুর গঠন দেখে সঠিক রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। এজন্য বর্তমানে ডিএনএ মিথাইলেশন অ্যানালাইসিস ব্যবহার করা হয়, যাকে স্বর্ণমান বা গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরা হয়। তবে এই পরীক্ষার জন্য বিশেষায়িত ল্যাব, উন্নত যন্ত্রপাতি এবং পর্যাপ্ত টিস্যু প্রয়োজন হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সময়, ফলাফল পেতে প্রায় ১২ দিন পর্যন্ত লেগে যায়। অনেক দেশ ও হাসপাতালেই এই প্রযুক্তি সহজলভ্য নয়।
হাজারো রোগীর তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ: গবেষকেরা হেটাইরোস তৈরি করেছেন ৯,৬০৬ জন রোগীর ১১,০০০-এরও বেশি ডিজিটাল টিস্যু স্লাইড ব্যবহার করে। এই ডেটা চারটি মহাদেশের ১১টি মেডিকেল সেন্টার থেকে সংগ্রহ করা হয়। এই বিশাল ডেটাসেট ব্যবহার করে এআই মডেলটি শিখেছে কীভাবে ১০২টি ভিন্ন মলিকুলার সাবটাইপ আলাদা করা যায়। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি শুধু রোগ নির্ণয়ই করে না, বরং নিজের সিদ্ধান্ত কতটা নিশ্চিত তাও জানায়। উচ্চ আত্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে (প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কেসে) এর নির্ভুলতা ছিল ৮৭ থেকে ৮৮ শতাংশের মধ্যে।
মানব বিশেষজ্ঞদের তুলনায় ফলাফল: গবেষণায় দেখা গেছে, হেটাইরোস অভিজ্ঞ নিউরোপ্যাথলজিস্টদের তুলনায় বেশি নির্ভুল ফল দিয়েছে। ২১০টি কেস বিশ্লেষণে এআই-এর নির্ভুলতা ছিল ৬৮ শতাংশ, যেখানে মানব বিশেষজ্ঞদের গড় নির্ভুলতা ছিল মাত্র ৩০ শতাংশ। তবে সম্ভাব্য তিনটি রোগের মধ্যে সঠিকটি ধরলে এআই-এর নির্ভুলতা বেড়ে প্রায় ৮৪ শতাংশে পৌঁছায়। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল দেখায় যে এআই এমন সূক্ষ্ম প্যাটার্ন শনাক্ত করতে পারে, যা মানুষের চোখে ধরা কঠিন। তবে খুব বিরল ধরনের টিউমারের ক্ষেত্রে এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সময় কমে এসেছে ১২ দিন থেকে ১২ মিনিটে: সাধারণ ডিএনএ মিথাইলেশন অ্যানালাইসিসে যেখানে প্রায় ১২ দিন সময় লাগে, সেখানে হেটাইরোস মাত্র ১২ মিনিটে ফলাফল দিতে পারে। পুরো প্রক্রিয়া, টিস্যু প্রস্তুতি ও ডিজিটাল স্ক্যানিংসহ শেষ হতে সাধারণত ১ থেকে ২ দিন সময় লাগে। গবেষকেরা বলছেন, এই প্রযুক্তি প্রচলিত পরীক্ষার বিকল্প নয়, বরং একটি সহায়ক ব্যবস্থা। বিশেষ করে যেখানে পর্যাপ্ত টিস্যু পাওয়া যায় না বা ফলাফল অস্পষ্ট থাকে, সেখানে এটি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল প্যাথলজি ভবিষ্যতে চিকিৎসাকে আরও দ্রুত, কম খরচে এবং সহজলভ্য করতে পারে। এতে রোগীর চিকিৎসা শুরু করার সময় কমে যাবে, যা বিশেষ করে মস্তিষ্কের টিউমারের মতো জটিল রোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর