নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া :: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘জাতীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। বাংলাদেশের নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতিনিধি নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের মাধ্যমেই আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। অন্যথায় ওই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হবে অনিবার্য। আজ শুক্রবার শাহ ফতেহ আলী মোড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বগুড়া সদর উপজেলার তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, আওয়ামী লীগের লুটপাট-সন্ত্রাস গোটা দেশকে গ্রাস করে ফেলেছে। তাদের লোকদের কারণে ব্যাংক খাত দেউলিয়া হওয়ার পথে। লাখ লাখ হাজার কোটি টাকা আওয়ামী লীগ বিদেশে পাচার করেছে। আওয়ামী লীগের জন্য আজ দেশ, ইসলাম ও ঈমান হুমকির মুখে। আজ মানুষের অধিকার নেই। ভোটের অধিকার নেই, বাকস্বাধীনতাও নেই। রাস্তায় নামলে এরা গুম করে ফেলে আর ঘরে থাকলে খুন। সরকারের জনসমর্থন এখন তলানিতে।’
চরমোনাই পীর বলেন, ‘বর্তমান সরকার ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ১৭৩ দিন হরতাল অবরোধ করে দেশকে অচল করে দিয়েছিল। আজ শেখ হাসিনা সংবিধানের দোহাই দিয়ে দেশকে এই ভয়ানক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার স্মরণ রাখা উচিত সংবিধান মানুষের কল্যাণের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়।
তিনি বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন প্রমাণ করে এই সরকারের অধীনে কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় পুনরায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। তাদের অবস্থা বাঘ-সিংহের মতো যেন না হয়। বনের ছোট ছোট প্রাণীরা যখন একত্রিত হয়ে হুংকার দেয় বাঘ-সিংহও তখন মসনদ ছেড়ে পালায়। তাই জনগণ একত্রিত হলে লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হবে এই সরকার। ভালো চাইলে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশকে সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা করুন।’
ইসলামী আন্দোলনের বগুড়া সদর উপজেলার সভাপতি মাওলানা শাহ জালালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলটির নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হক আজাদ। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বগুড়া জেলার সভাপতি মাওলানা আ.স.ম মামুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলামসহ প্রমুখ।