নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :: নির্বাচন সামনে রেখে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর তৎপরতার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের উদ্দেশ্য নির্বাচন বা গণতন্ত্র নয়, দেশের উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। আওয়ামী লীগকে সরিয়ে তাদের কিছু পদলেহনকারী গোলামদের ক্ষমতায় বসাতে চায় তারা। আর ভারত মহাসাগর-বঙ্গোপসাগরের মধ্যে থাকা দেশগুলোতে আক্রমণ ও অশান্তি করে দেশগুলোকে ধ্বংস করতে চায়। এ দেশকেও ধ্বংস করতে চায়। বিএনপি আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিএনপি জানে নির্বাচনে তারা জিততে পারবে না। তাই আন্দোলনের নামে নির্বাচন বন্ধ করা কিংবা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় তারা। যারা ভোট চুরি করে দুইবার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তাদের মুখে নির্বাচন ও গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না। বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন নির্বাচন নিয়ে অনেকে উতলা হয়েছেন। তাদের কাছে প্রশ্ন– ২০০১ সালে যখন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে নির্যাতন করা হয়েছে, তখন তো নির্বাচন নিয়ে তাদের এত মাথাব্যথা ছিল না। ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে তো তাদের এমন চেতনা দেখিনি। খালেদা জিয়ার ভুয়া ভোটার নিয়েও তো তাদের কোনো উদ্বেগ দেখিনি। এ দেশের যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালাল, তাদের সঙ্গে বসতে হবে কেন?
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের একজন কুলাঙ্গার সুদখোর আছেন। শ্রমিকের অর্থ মেরে খান, ট্যাক্স দেননি। গরিব থেকে উচ্চসুদে টাকা নিয়ে মেরে দিয়ে বিদেশে পাচার করেন। তিনিও তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) প্রিয় ব্যক্তি। আমরা কাজ করি, মানুষের কল্যাণে।
বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা আমাদের বাড়িতে সব সময় ওঠাবসা ও খাওয়া-দাওয়া করেছে, তারাই বেইমানি করেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। জাতির পিতাকে হত্যা করে সংবিধান না মেনে খুনি মোশতাক নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। জিয়াউর রহমানকে বানালেন সেনাপ্রধান। এতেই বোঝা যায়, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মীরজাফর যেমন তিন মাসের বেশি থাকতে পারেনি, তেমনি মোশতাকও পারেননি। জিয়া উর্দি পরে ক্ষমতা দখল এবং পরে নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। আর্মি রুলস ভঙ্গ করে একটা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। ভোট কারচুপি ও ভোট চুরি তো সেখান থেকে শুরু। এরপর বিএনপি নামক সেই দল করেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির এবং মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি। সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম।