নিজস্ব প্রতিবেদক:: রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে চালু থাকা ৯৮টি বাস রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি সমন্বিত রুটে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি রুটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে আজ রবিবার। পর্যায়ক্রমে বাকি রুটগুলোও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় একই সড়কে একাধিক কোম্পানির বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমবে। নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা, বাস চলাচলে শৃঙ্খলা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি যানজট কমাতেও ভূমিকা রাখবে এ উদ্যোগ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি নির্ধারিত রুটে একটি কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতা, যত্রতত্র বাস থামানো এবং একই পথে অতিরিক্ত বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতেই বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের প্রকৃত চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা ও যানবাহন চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে ৯৮টি রুটকে ৩২টি সমন্বিত রুটে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ডিটিসিএ সূত্র জানায়, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। ৯৮টি সচল বাস রুটের প্রতিটিতে ১৮টি ট্রিপের যাত্রী ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রীর যাত্রা শুরুর স্থান ও গন্তব্য নিয়ে জরিপ করা হয়েছে। মহানগরীর ৭২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনাও করা হয়। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ডিটিসিএর হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৩২টি রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ যাত্রীর যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে চালু হতে যাওয়া ছয়টি রুট হলো, গাজীপুরের শিববাড়ী চৌরাস্তা থেকে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জের চুলকুটিয়া, মোহাম্মদপুরের ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, ঘাটারচর থেকে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড-কাঁচপুর ব্রিজ, ঘাটারচর থেকে আব্দুল্লাহপুরের ধউর ব্রিজ এবং টঙ্গী কলেজগেট থেকে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির। এসব রুটে ৭০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত নন-এসি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। টঙ্গী কলেজগেট থেকে আজিমপুর পর্যন্ত ২২ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার পথে ২০টি এসি বাস চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। এ ছাড়া ফার্মগেট-পলাশী, মোহাম্মদপুর ও উত্তরা এলাকায় তিনটি চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি রুটে ২০টি করে বাস পরিচালনার প্রস্তাব রয়েছে।
রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয় ২০১১ সালে। তবে তখন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৯ সালে ডিটিসিএ নতুন করে পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করে। প্রথমে ৪২টি রুটের প্রস্তাব করা হলেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিআরটিএ, দুই সিটি করপোরেশন, বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ৩২টি রুট চূড়ান্ত করা হয়। পরিকল্পনায় ঢাকা চাকা, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, ফোর স্টার বাস লাইন ও পিএনপি সিটি সার্ভিসসহ কয়েকটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। পাশাপাশি বাস রাখার জন্য বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণের প্রস্তাবও করা হয়েছে।