নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা :: কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারণার শেষদিনে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নারকেলগাছ প্রতীকের প্রার্থী মো. আবুল কাশেম কাফনের কাপড় পরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন।
আজ শনিবার বিকেলে দেবীদ্বার পৌরসভার চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবুল কাশেম জানান, আগামী ১৭ জুন (সোমবার) সুষ্ঠু ভোট না হলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। আর তার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।কারণ তিনি নির্বাচনকে নৌকার পক্ষে প্রভাবিত করেছেন। এ সময় সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে দেবীদ্বার থানার ওসি কমল কৃষ্ণ ধরকে ভোটের আগে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে নারকেলগাছ প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাশেম বলেন, ‘প্রতীক পাওয়ার পর থেকে নৌকা প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শামীম নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসন নীরব।আমি ঢাকায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে দুই দিন আগে দেবীদ্বার থানার ওসিসহ পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ ধরকে প্রত্যাহার করা আবশ্যক। অন্যথায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।’
তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ‘দেবীদ্বারের স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল সরকারদলীয় প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শামীমকে জেতানোর জন্য পৌরসভা কাছাকাছি তার গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন।পৌরসভার বাইরের পুরো দেবীদ্বারের তার সকল নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীদের ডেকে নিয়ে তিনি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তারা ভোটের দিন ১৪টি কেন্দ্রে অবস্থান করে আমার একনিষ্ঠ ভোটারদের হুমকি দেবেন, যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে না আসেন। এমন হলে ভোট মোটেও অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ হবে না।’
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন সরকারদলীয় প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শামীমের খুবই ঘনিষ্ঠ (বন্ধু)। সে কারণে শামীমের ঘনিষ্ঠদের প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন আপন ভাই। এমতাবস্থায় তারা দুজন মিলে শামীমকে পাস করানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে পারে বলে গোপন সূত্রে খবর পেয়েছি।’
এদিকে আজ সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) মেয়র প্রার্থী ক্যারম বোর্ড প্রতীকের এম এ কাইয়ুম ভূঁঞা। সংবাদ সম্মেলনে তিনিও সুষ্ঠু ভোট না হলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দেন। এ ছাড়া থানার ওসি, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবি করেন তিনি।
সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে ক্যারম বোর্ড প্রতীকের মেয়র প্রার্থী এমএ কাইয়ুম ভূঁঞা বলেন, ‘এমপি নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য দেবীদ্বারের সকল নির্বাচনকে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছেন। নির্বাচন এখন এমপির কারণে আর অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না। পৌর নির্বাচনেও তাই এমপির কারণে সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কা করছি। এই এমপি পৌরসভার পাশে বসে এসবের নেপথ্যে কাজ করছে। তিনি দেবীদ্বারে নৌকা ও আওয়ামী লীগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দেবীদ্বারে আওয়ামী লীগের একমাত্র ক্ষতি করেছে এমপি রাজী। নির্বাচনে যদি তিনি এভাবে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখেন, তাহলে ভোট সুষ্ঠু হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যদি আমার ভোটারদের ভোট দিতে না দেওয়া হয় তাহলে আমি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব। আর লিখে দিয়ে যাব এর জন্য দায়ী এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।’
তিনিও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন ও সরকার দলীয় প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শামীমের খুবই ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেন এবং নির্বাচনে তাদের প্রভাবের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমি এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।’
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তো দেবীদ্বারে নেই। তফসিল ঘোষণার পর একদিন দেবীদ্বার পৌর এলাকায় গিয়েছি বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ফাইনাল খেলায়। এ ছাড়া পৌরসভা এলাকায় আর যাইনি। এসব কথা ভিত্তিহীন। আমার গ্রামের বাড়িতে তো ভোট হচ্ছে না। এগুলো ভিত্তিহীন কথা। আমি নির্বাচনে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করছি না।’
নৌকার প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা দেখে তারা এখন অপপ্রচারে নেমেছে। তাদের এসব অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। নির্বাচনের পরিবেশ উৎসবমুখর। তারা মিথ্যা বলে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।’