নিজস্ব প্রতিবেদক:: জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নগরীর ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে এক হাজারের বেশি অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপনসহ ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে চসিক এলাকায় মোট ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৯২ হাজার এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৭২ হাজার শিশু রয়েছে। মেয়র বলেন, ৬-১১ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ আইইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লাখ আইইউ) খাওয়ানো হবে।
তিনি আরও জানান, চসিকের সাতটি ইপিআই জোনের আওতায় নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে প্রায় ১ হাজার ৩২১টি অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। যাতে কোনো শিশু এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ক্যাম্পেইন শেষে কোনো শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ থেকে বাদ পড়লে তাদের অভিভাবকদের নিকটস্থ ইপিআই কেন্দ্রে নিয়ে এসে ক্যাপসুল খাওয়ানোর সুযোগ রাখা হবে বলেও জানান মেয়র। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ভিটামিন ‘এ’ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। জন্মের পরপর শিশুকে শালদুধ (১ ঘণ্টার মধ্যে) খাওয়ানোসহ প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে হবে। শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি পরিমাণমতো সুষম খাবার খাওয়াতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬-১১ মাস লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৯০ হাজার ৪৩৫, অর্জন ৮৯ হাজার ১৮৯, অর্জিত হার ৯৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। ১২-৫৯ মাসের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৭১ হাজার ৭৩২, অর্জন ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০৫, অর্জিত হার ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ।