দৈনিক বিজয়বাংলা ডেস্ক :: ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে শতভাগ সাফল্য অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। চলতি অর্থবছরে ৮৪ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও জুন মাসের শেষ নাগাদ তা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা আদায়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানমের সরাসরি মাঠে নামার ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এসব তথ্য জানান।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাছে প্রায় ৭ কোটি টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কাছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া ছিল। বছরের পর বছর এই দাবি বকেয়া পড়ে থাকলেও তা আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো বাস্তব অগ্রগতি ছিল না।
এ বিষয়ে ডিসি ফরিদা খানম বলেন, ‘আমি জেলা কালেক্টর হিসেবে নিজেই দুই সিটি করপোরেশনে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার এই সরাসরি উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতিবাচকভাবে নাড়া দিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে বকেয়া ১৫ কোটির মধ্যে ৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে এবং বাকি অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে। অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও দ্রুত ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘আমি নিজে উদ্যোগ না নিলে হয়তো এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হতো না।’
ভবিষ্যতে যাতে সরকারি সংস্থাগুলোর বকেয়া না জমে, সে ব্যাপারে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন অফিসের কাজের বাইরে প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা রাজউক, বাংলাদেশ রেলওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বকেয়া আদায়ে যোগাযোগ করেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। ঢাকাকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে বলে জানান ফরিদা খানম। লক্ষ্য অর্জনে সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন ধরে লিজ নেওয়া সরকারি জমির যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। শর্ত ভঙ্গ করে লিজের জমি ব্যবহার করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ভূমি অফিসের সেবার মান বৃদ্ধি ও দুর্নীতি রোধে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রশাসনের কর্মকর্তারা জনগণের শাসক নন, সেবক। জনগণের করের টাকায় আমাদের বেতন হয়, তাই সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষকসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন তিনি। তথ্য সূত্র : বাসস।