June 2, 2026, 10:47 am

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে অধরা ইয়াসমিনের নামে মামলা

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, July 12, 2023
  • 173 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: অধরা ইয়াসমিন নামক এক সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এক ভুক্তভোগী। আইনি সহায়তা চেয়েছেন শাকেরুল কবির নামক এক ব্যক্তি। বাদীর দাবী, কিছুদিন আগে আরটিভি’তে অধরা ইয়াসমিন একটি প্রতিবেদন করে, যেখানে ভুল, মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করায় সে সামাজিক জীবনে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছে। এজন্য সে আইনের আশ্রয় নিয়েছে।

খবর নিয়ে জানাযায় অধরা ইয়াসমিনের কাছে পৌছানো মাত্র সে ও তার সঙ্গীসাথীগণ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এবং রাজারবাগ  শরীফের বিরুদ্ধে কটু ও মিথ্যা কথা সমৃদ্ধ নিউজ, স্ট্যাটাস অনলাইনে প্রচার শুরু করে।  তাদের দাবী “রাজারবাগ শরীফের অপকর্ম ফাঁস করার কারণে নাকি তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।” (নাউযুবিল্লাহ)পাঠক প্রথমেই বলে রাখি, এই মামলার সাথে রাজারবাগ শরীফ কর্তৃপক্ষের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নাই।  মামলাটি করেছে শাকেরুল কবির নামক এক ব্যক্তি, যে মামলার আরজিতে লিখেছে, ব্যক্তিগত ভাবে উক্ত প্রতিবেদন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  সে মামলার বিবাদী করেছে সাংবাদিক অধরা ইয়াসমিনকে এবং তার ফুপাতো ভাই একরামুল আহসান কাঞ্চনকে।মূলত মামাতো-ফুফাতো ভাই শাকের ও কাঞ্চনের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ, সেই বিরোধের কারণেই এই প্রতিবেদন। যারা রাজারবাগ শরীফ সম্পর্কে মিথ্যা নিউজ করে, তারা আসলে জানেই না,রাজারবাগ শরীফ আসলে কি?দরবার শরীফ হচ্ছে একটি শিক্ষাকেন্দ্র। পবিত্র কুরআন-সুন্নাহ শিক্ষাকেন্দ্র।আপনি নিজে যখন স্ব-শরীরে রাজারবাগ শরীফে আসবেন, তখন বুঝবেন, দরবার শরীফে প্রতিনিয়ত কুরআন-সুন্নাহ তালিম-তালকিন হচ্ছে এবং প্রতিদিন বাদ এশা রাজারবাগ দরবার শরীফের হযরত মুজাদ্দিদে আযম মুরশিদ কিবলা(পীর সাহেব)।তিনি নিজে পবিত্র কুরআন সুন্নাহ থেকে সবাইকে তালিম দিচ্ছেন। সেই তালিমে দেশ-বিদেশ থেকে অনেক লোকজন আসে। কেউ নিয়মিত আসে, কেউ অনিয়মিত।  কেউ তালিম শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছে সুন্নতি পোশাক আশাকও পরে।  পীর শব্দটা হচেছ ফার্সি শব্দ, যার অর্থঃ শিক্ষক। কথা হচ্ছে, এই যে মানুষ প্রতিনিয়ত তালিম নিতে আসছে, এই মানুষগুলো যদি ব্যক্তি জীবনে কোন অপরাধ করে করে কিংবা তাদের ফ্যামিলির মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব থাকে, তবে সেটা কি পীর সাহেবের দায় হবে ? একটি স্কুলে কোন ছাত্র যদি অপরাধ করে তার দায়িত্ব কি ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের ? শাকের-কাঞ্চন মামাতো ফুফাতো ভাই, তাদের ফ্যামিলির মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এটা শুধু তাদের ফ্যামিলির মধ্যে নাই, বাংলাদেশে কোটি কোটি ফ্যামিলির মধ্যেই সম্মত্তি নিয়ে এমন দ্বন্দ্ব আছে। সেই দ্বন্দ্ব থেকে যেন কেউ আইন নিজ হাতে তুলে না নেয় সে জন্য রাষ্ট্র আইন-আদালতের ব্যবস্থা করেছে। কথা হচ্ছে, শাকের ও কাঞ্চন দুই’জনই দরবার শরীফে আসা যাওয়া করতো।তাহলে তারা যে অপকর্ম করবে, তার দায় কি পীর উনার  হবে ? শাকেরুল কবির দরবার শরীফে আসা যাওয়া করতো বলে, সে মামলা করলে যদি দরবার শরীফের দোষ হয়, তবে কাঞ্চন তো এক সময় দরবার শরীফে আসা যাওয়া করতো, তো সে অন্য নারীকে মা বানিয়ে সম্পত্তির জাল দলিল করে নিজের নাম লিখে নিয়েছিলো।  সেই সময় তার মা তার বিরুদ্ধে মামলা করে, সেই জালিয়াতির কারণে কাঞ্চনের ৫ বছরের কারাদণ্ড হয়।  বর্তমানে কাঞ্চন দারাদণ্ড ভোগ করছে।  কথা হচ্ছে, যেহেতু কাঞ্চন এক সময় দরবার শরীফ আসা যাওয়া করতো, তবে তার অপরাধের দায়ও কি পীর উনার নিতে হবে ? প্রকৃতপক্ষে, উক্ত প্রতিবেদনে রাজারবাগ শরীফের সম্মানিত পীর উনার নাম জড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, তিনি যেহেতু মুরব্বী, সেহেতু তিনি যেন বলে বিষয়টি কোন পক্ষের মন মত সমাধান করে দেন। এজন্য উদ্দেশ্য মূলকভাবে উনার পবিত্র নাম জড়িয়ে উনাকে হেয় করে প্রেসার দেয়া হচ্ছে, আর কিছু না। যাই হোক, যে বিষয়টি নিয়ে বলছিলাম, অধরা ও তার সাঙ্গপাঙ্গ বলছে, অপকর্ম ফাঁস করায় নাকি মামলা হয়েছে।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, অধরা যার অপকর্ম ফাঁস করলো, তার নামে মামলা হলো না কেন ? তাহলে কেমন অপকর্ম ফাঁস হলো, যে অপকর্মের আইনী ভিত্তি নেই ? বরং তিনি যে প্রতিবেদন করেছেন, সেটা উল্টা বেআইনী বলে মামলা হয়ে গেলো ?সূত্রমতে দেখা যাচ্ছে, অধরা-ই আইন বিরোধী, কিন্তু শাকেরুল আইনের পক্ষে। 

কোন মানুষ আইনের উর্ধ্বে নয়, সাংবাদিকরাও যেহেতু মানুষ, তারাও যেহেতু ভুল করতে পারে, অন্যায় করতে পারে, সুতরাং সাংবাদিকরাও আইনের উর্দ্ধে নয়। আমার তো মনে হয়, একজন সাধারণ মানুষের থেকে সাংবাদিকদের আইন আরো কঠিন হওয়া উচিত।কারণ তারা যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে বা ভুল করে এমন তথ্য মিডিয়াতে প্রচার করে দেয়, যখন ভূক্তভোগী ব্যক্তির মানহানীসহ বহু ধরনের সর্বনাশ হতে পারে।  সুতরাং তাদের তথ্য প্রকাশের বিধিমালা বা শৃঙ্খলা আরো শক্ত হওয়া উচিত। গতকালকে থেকে দেখেছি, কিছু কিছু সাংবাদিক সংগঠন অধরার প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে শাকেরুলের মামলার নিন্দা করেছে।আমার কাছে এ কাজটা মারাত্মক ভুল মনে হয়েছে।অন্তত সাংবাদিকতা পেশা নিঃশেষ করে দেয়ার জন্য এমন কাজ যথেষ্ট।বিষয়টি বুঝিয়ে বলি, ছোটবেলায় দেখতাম, কিছু কিছু বেয়ারা ছেলেপেলে ছিলো, তাদের কাজ ছিলো মারামারি, কাটাকাটি করা।কিন্তু সেই ছেলেকে যদি কেউ শাসন করতো, সাথে সাথে তার মা আসতো তার দুষ্ট ছেলের পক্ষে ওকালতি করতে, বলতো- ‘ও যা করেছে ঠিক করেছে।  ওকে তোমরা কিছু বলতে পারবা না। এধরনের ছেলেপেলে বড় হয়ে বেয়ারা হতো এবং মা-বাপের মাথা খেতো।  তো অধরা কি নিউজ করেছে, সেটা সত্য না মিথ্যা সেটা না খুজে যখন কতিপয় সাংবাদিক অন্ধের মত অধরার পক্ষে বলা এবং ভূক্তভোগীদের বিরুদ্ধে বলে তখন বুঝতে হবে সাংবাদিকতার পতন ঘন্টা বেজে গেছে। খুব শিঘ্রই একটা সময় আসবে, যখন মানুষ সাংবাদিকতা পেশাকে নীতিবিবর্জিত পেশা মনে করবে এবং সাংবাদিক নাম শুনলে শ্রদ্ধার পরিবর্তে ধান্ধাবাজ ভাববে।

অধরা যে প্রতিবেদন করেছে, আমি তার ডিসেকশন করবো না, শুধু দুটি ছবির কথা বলবো।  গতকালকে আরটিভিতে বিভিন্ন সংবাদ বা প্রতিবেদনে রাজারবাগ  শরীফের সম্মানিত পীর উনার  নামে যে দুটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, একটি ছিলো কুতুববাগের পীরের ছবি, অন্যটি হচ্ছে রাজারবাগ দরবার শরীফের গেইটের পুরাতন এক সিকিউরিটি গার্ডের ছবি। রাজারবাগ শরীফের সম্মানিত পীর উনার তিনি শরীয়ত কারণে কোন প্রকার ছবি তুলেন না, উনার কোন প্রকার ছবি নেই।  কথা হচ্ছে, একজনের ছবিকে অন্যজনের ছবি হিসেবে প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।  এই সামান্য আইনটুকু সাংবাদিক অধরার জানা উচিত। যিনি এই সামান্য আইনটুকু জানেন না, তিনি কিভাবে ক্রাইম প্রতিবেদন করার যোগ্য হোন, এটা আমার মাথায় আসে না। এমনকি যখন তিনি শুনলেন, ঐ প্রতিবেদন নিয়ে মামলা হয়েছে, তখন তার আইন সম্পর্কে আরো শ্রদ্ধাশীল হওয়ার দরকার ছিলো,কিন্তু সেটা না করে তিনি মিথ্যা তথ্যগুলো দাম্ভিকতার সাথে প্রচার করে উল্টো ভূক্তভোগীকে দোষারোপ করছেন। এই হলো এক ক্রাইম রিপোর্টারের কোয়ালিটি, বুঝেন অবস্থা। 

আসলে, সাংবাদিকরা তখনই ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল চাইতে পারেন, তখন তারা নিশ্চিত হবেন, তাদের কোন সদস্য মিডিয়ায় প্রবেশের সুযোগ নিয়ে কোন প্রকার অপরাধ করবে না, মিথ্যা তথ্য, মানহানীকর তথ্য প্রকাশ করবে না, কোন প্রকার দুর্নীতির আশ্রয় নেবে না। অর্থ্যাৎ শুদ্ধতার বিষয়ে তারা নিশ্চিত। সুতরাং তাদের জন্য বাইরের কোন আইনের প্রয়োজন নেই, তারাই তাদের শুদ্ধতা নিশ্চিত করবে। এজন্য অধরার প্রতিবেদনের পর সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দায়িত্ব ছিলো অধরার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া, তার সাংবাদিক সার্টিফিকেট বাতিল করা। কিন্তু সাংবাদিকরাই  যখন অধরার ভুলে ভরা প্রতিবেদনের পক্ষ নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, তখন তাদের আন্দোলনের দাবির গ্রগণ যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, অপরাধীকে বাচাতে তারা আইন বাতিল চাচ্ছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর