নিজস্ব প্রতিবেদক:: পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলায় তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় এই মামলার আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুন ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রোববার রায়ের তারিখ ধার্য করেন।
গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর পল্লবীর সেকশন-১১-এর একটি বাসার ৫ তলা ভবনের তৃতীয় তলার উত্তর পাশের কক্ষের বেডরুম থেকে আট বছরের শিশু দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কাঁধ থেকে দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন ছিল। একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ২০ মে ভোরে ওই শিশুর বাবা পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই সোহেল রানা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন।
এরপর ২৪ মে বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। ওই দিনই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ১ জুন অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। ১ জুন অভিযোগ গঠনের পরদিনই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়। গত মঙ্গলবার এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। এই মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আজ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে মামলায় বিচার শুরু হওয়া থেকে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে বিচার শেষ হলো।