সাথী আক্তার, টঙ্গী :: টঙ্গীতে ডেঙ্গু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভারিবর্ষণে বাসাবাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, খানাখন্দ, ড্রেন ও নর্দমায় পানি জমে ব্যাপক হারে মশার লার্ভা জন্ম নিয়েছে। ডেঙ্গু আতঙ্কের মধ্যেই রবিবার খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে দিনে ও রাতে মশারি টানিয়ে পড়ালেখা করতে দেখা গেছে। গত এক সপ্তাহে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে প্রায় অর্ধশতাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটে উন্মুক্তভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা। ডেঙ্গু আক্রান্তের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। কিন্তু গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় মশক নিধনের কোনো কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। এতে ডেঙ্গু আতঙ্কে ভোগছেন নাগরিকরা।
টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, টঙ্গী বাজার, বনমালা, মরকুন, শিলমুন, স্টেশনরোড, মধুমিতা, বউবাজার, আনারকলি রোড, জামাই বাজার, মাছিমপুর, দত্তপাড়া, মিলগেইট, কলাবাগান বস্তি, বেঙ্গল মাঠ বস্তি, চেরাগআলী, আউচপাড়া, দত্তপাড়া, খাঁপাড়া, বড় দেওড়া, ফকির মার্কেট, আমতলি কেরানীরটেক বস্তি, টিএন্ডটি বাজার, পাগাড়, এরশাদনগর বস্তি এলাকার বসতবাড়ির আশপাশের খানাখন্দে পানি জমে রয়েছে। এতে মশা ও মশার লার্ভা বিস্তার করছে। মশা নিধনে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এডিস, অ্যানোফিলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মশা জন্মের হার দিন দিন বেড়েই চলছে।
সিটির নাগরিক স্বপ্না বেগম বলেন, আমাদের বাসার আশপাশে ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান জানতে পেরে আতঙ্কে ছেলেমেয়েদের মশারি টানিয়ে পড়ালেখা করাচ্ছি। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের উচিত মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এদিকে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক ডেঙ্গু রোগী টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, আমরা সিটি করপোরেশন এলাকার ৫৭টি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি। যাতে বাসা বাড়ির কোথায় পানি জমে না থাকে সে বিষয়ে মাইকিং করে নাগরিকদের সচেতন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টঙ্গীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে প্রায় অর্ধশতাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। যাদের অবস্থা খারাপ তারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং গুরুতর অবস্থায় দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। হাসপাতালের ষষ্ঠতলায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা একটি ইউনিট খোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ মশারি রয়েছে কিন্তু রোগীদের বারবার বলার পরও তারা মশারি টাঙাতে চায় না। মশারি ছাড়া যাতে কোনো রোগী না থাকে- সেই ব্যাপারে নার্সদের কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।