স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী :: গাজীপুরের টঙ্গীতে বহুল সমালোচিত আওয়ামীলীগ নেতা শেখ বাদল আহমেদ ওরফে জার্মান বাদল কে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে টঙ্গী পূর্ব থানায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান।
বাদলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ব্যক্তিগত কারণে স্বপরিবারে গাজীপুর অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আসেন বাদল। এদিকে খবর পেয়ে এনসিপির নেতাকর্মীরা থানার প্রধান ফটকের বাইরে জড়ো হয়ে তাকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ‘থানায় থানায় লীগ ঘুরে, প্রশাসন কী করে’ এবং ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরবর্তীতে এনসিপি নেতাদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শেখ বাদল আহমেদকে গ্রেফতার করে। সংবাদ বিশ্লেষণ সেবা
গ্রেফতার করলেও রাতে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি পুলিশ। আজ শুক্রবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, বাদল আহমেদকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে টঙ্গী পূর্ব থানা এনসিপির আহ্বায়ক মঈন আহমেদ অভিযোগ করেন, বাদল আহমেদের বিরুদ্ধে বাগেরহাট জেলায় বৈষম্যবিরোধী চারটি মামলা রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের অর্থ জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত এবং বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় দমন-পীড়নে উস্কানি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এলাকাবাসী ও এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, বাদল আহমেদের মালিকানাধীন তিন-চার তারকা মানের জাভান হোটেলে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাদল এলাকার যুব সমাজকে বিপথগামী করেছেন। এ কারণেও তার বিচার দাবি করেন তারা।
এদিকে থানা সূত্রে জানা যায়, জাভান হোটেলে মাদককারবার ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাদল আহমেদের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা থাকলেও তিনি বর্তমানে সব মামলায় জামিনে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, শেখ বাদল আহমেদ জার্মান শাখা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক (দুইবার) ছিলেন। এছাড়া তিনি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের সাবেক ভিপি, জাভান হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং একটি শিল্প গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান। শেখ পরিবারের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং শেখ রেহানা তার জাভান হোটেলের ব্যবসায়ীক পার্টনার বলেও তিনি বিগত দিনে দাবি করতেন।