নিজস্ব প্রতিবেদক:: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান (৪০) নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন। এতে উভয়পক্ষের আরো ৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ওই জামায়াত কর্মী মারা যান বলে জানা গেছে। ওই দিন রাত ৮টার দিকে উপজেলার হাসাদাহ বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মফিজুর রহমান, কর্মী মাহফুজ হোসেন (২৫) এবং হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান (৩৬) তার পিতা জসিম উদ্দিন (৬৫) ও তৌফিক (৪০)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান জামায়াত সমর্থকদের মারার উদ্দেশে হাসুয়া নিয়ে উপজেলার সুটিয়া গ্রামে যায়। সুটিয়া গ্রামের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে মেহেদী হাসানকে মারধর করে সুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে।
এই ঘটনার জের ধরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম হাসাদহ বাজারে আসলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান, জসিম উদ্দিন, ইমরান ও বাপ্পা মিলে তাকে কিল ঘুষি মেরে আহত করে।
পরে আহত খায়রুল ইসলাম জামায়াতের দলীয় লোকজন নিয়ে ইফতারের পর মেহেদী হাসানের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কথা কাটাকাটির শুরু হয়। এরই একপর্যায়ে জামায়াত ইসলামী এবং বিএনপির দলীয় সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ৬ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর রেফার করা হয়। বাকি ২জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়।
আহতদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মারা যান।
জীবননগর থানার ওসি সুলাইমান শেখ জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন হাফিজুর। এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।