June 1, 2026, 2:23 am

মাদক ও ছিনতাই আতঙ্ক থেকে রেহাই পেতে চায় গাজীপুরের ভোটাররা!

Reporter Name
  • আপডেট Friday, February 6, 2026
  • 104 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় গড়ে উঠেছে ১৯টি বস্তি। এসব বস্তিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাই চক্র। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বস্তির আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ নাগরিকরা। মাদক ও ছিনতাই আতঙ্ক থেকে রেহাই পেতে চায় এখানকার ভোটাররা। ভোটারদের কাছে কেমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চান জানতে চাইলে অধিকাংশ ভোটারদের প্রথম ও প্রধান প্রত্যাশা মাদক ও ছিনতাইমুক্ত সমাজগঠনে ভূমিকার কথা জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, যিনিই এমপি নির্বাচিত হোন না কেন, তিনি যেন মাদক ও ছিনতাইমুক্ত এলাকা গঠনে শক্তহাতে ভূমিকা রাখেন। তাদের একজন টঙ্গী পাখির হাট এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা মাদক এবং ছিনতাই আতঙ্ক। মাদক ও ছিনতাই একই সুতাই গাঁথা। দুটা বন্ধ হওয়া খুবই জরুরি। এবার তাকেই ভোট দেব, যিনি এ দুটো বন্ধ করতে শক্ত ভূমিকা রাখবেন।
আসন বিন্যাস হিসেবে টঙ্গীর ১৯টি বস্তি এলাকা গাজীপুর-২ (গাজীপুর ও টঙ্গী) আসনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এবারের নির্বাচনেএ আসন থেকে ভোটযুদ্ধে লড়াই করছেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী এম মন্জুরুল করিম রনি এবং ১১ দলীয় জোটের এনসিপির প্রার্থী আলী নাছের খান। এছাড়াও এ আসনে ১২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন- গণঅধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিত বড়ুয়া, বাসদের মো. আবদুল কাইয়ুম, জনতার দলের মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হানিফ সরকার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. জিয়াউল কবীর, ইনসানিয়াত বিল্পব বাংলাদেশের সরকার তাসলিমা আফরোজ, মার্কসবাদীর মাসুদ রেজা, জাতীয় পার্টির মো. মাহবুব আলম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুর-২ আসনজুড়ে (গাজীপুর সদর ও টঙ্গী) রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটের মাঠে জয় পেতে প্রার্থীরা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান আর আধুনিক নগরী বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটারদের প্রত্যাশায় শীর্ষে রয়েছে মাদক-সন্ত্রাস ও ছিনতামুক্ত সমাজ। রাজধানী ঢাকার লাগোয়া হওয়ায় স্থানীয়দের চোখে এ গুরুত্বপূর্ণ আসনটি ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য ও মাদক ব্যবসার নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে বেশ পরিচিতি রয়েছে।
বিশেষ করে টঙ্গীর আশপাশের এরশাদনগর, আরিচপুর, কলোনি এলাকা ও রেললাইনের আশপাশ-দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে আলোচিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অদৃশ্য শক্তির দাপটে এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করে টঙ্গীর এসব বস্তি থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদক বিক্রি হচ্ছে। তবুও দেখার কেউ নেই। তাদের দাবি, ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজার অবাধ কারবারে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর তরুণ-তরুণী এমনকি বৃদ্ধ বয়সের লোকজন।
টঙ্গীর আরিচপুর এলাকার গৃহবধূ আছিয়া বেগম তার ছেলেকে নিয়ে টঙ্গীর কলেজগেট এলাকায় স্কুলে আসেন। তার সঙ্গে কথা হলে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবসময় টেনশনে থাকতে হয়। মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের অত্যাচারে বাচ্চাদের একা একা স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। কখন জানি কি হয়ে যায়। কষ্ট হলেও বাচ্চাকে স্কুলে পৌঁছে দিতে হয় এবং নিয়ে যেতে হয়। সন্ধ্যার পর বের হলেই মাদকসেবীদের উৎপাত। এলাকাকে মাদকমুক্ত করা জরুরি।
ভোটারদের মতে, এবার নির্বাচনে এমপি প্রার্থীদের কাছ থেকে তারা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, স্পষ্ট অবস্থান চান। এক কলেজ শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, কে কত রাস্তা করবে, সেটা পরে দেখা যাবে। আগে মানুষ বাঁচুক। মাদক আর ছিনতাই বন্ধ করতে না পারলে উন্নয়ন অর্থহীন। তাই যিনি এসব বন্ধ করবেন এবং প্রতিশ্রুতি দেবেন তাকেই ভোট দেব।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাদক ও ছিনতাই দমনে আমাদের অভিযান চলমান। অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে জনবল ও এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বৃহস্পতিবার গাজীপুর-২ আসনের ২৮ নাম্বার ওয়ার্ডের একটি কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের ক্লাশের ফাঁকে, স্কুল গেটের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের সঙ্গে কৌশল বিনিময়ে ব্যস্ত বিএনপির প্রার্থী এম মন্জুরুল করিম রনি। কেউ হাত মেলাচ্ছেন, কেউ এগিয়ে এসে বলছেন এলাকার সমস্যার কথা।
দুপুর ১টায় তিনি ছুটে যান গাজীপুর আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের সঙ্গে গণসংযোগে। আদালতপাড়ার পরিবেশ তখন পরিচিত মুখে ভরা। আইনজীবীরা বলেন, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ফেরাতে সংসদে শক্ত কণ্ঠ দরকার।
এ সময়ে এম মন্জুরুল করিম আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ১৮ বছর পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি বাংলাদেশের মানুষের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। গত ১৮ বছর কত মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, নিপীড়িত হয়েছি তার বড় সাক্ষী আপনারাই। সব মামলা, হামলা ও জুলুম যা কিছু আছে তার ফাইলপত্র আপনাদের হাত দিয়েই নড়াচড়া হয়েছে। আইনজীবীরাও নির্যাতিত হয়েছেন। অনেকে জেল খেটেছেন, মামলাও হয়ত এখনও অনেকের মাথায় আছে।
এরশাদনগরের এক বাসিন্দা  বলেন, বস্তি মানেই সবাই অপরাধী না; কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখান থেকেই মাদক আর ছিনতাইয়ের বড় অংশ পরিচালিত হয়। এর আগে যারা ছিলেন তারা এসবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমাদের প্রত্যাশা এবার যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি মাদক এবং ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর