স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান-এর সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা সদরের বর্জুনা গ্রামের মন্দিরে আগত ভক্তবৃন্দের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহ রিয়াজুল হান্নান। কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বিআরডিবি চেয়ারম্যান সেলিম হোসেন আরজু সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজগর হোসেন খানের সঞ্চালনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন তপন মাস্টার, রতন চন্দ্র দে, স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খোকা মোক্তার, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ মজুমদার, বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন সৈয়দ, শাহিনা আক্তার প্রমুখ।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর মাসুদ করিম, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নূর উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলু, বিএনপি নেতা আকরাম হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব আশরাফুল আলম সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান জামান প্রমুখ। এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, ‘একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরীহ মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তারা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমান মা-বোনদের জান্নাত পাওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।’
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে আপনারা আমার পিতাকে ভোট দিয়ে এমপি ও মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তিনি আপনাদের রাষ্ট্রীয় আমানত যথাযথভাবে রক্ষা করেছিলেন। আমাকে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করলে পিতার রেখে যাওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। যে কোনো মূল্যে কাপাসিয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবো। হিন্দু-মুসলিম সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’
উপস্থিত মা-বোনদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলেই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। তাই সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখবো। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা দীর্ঘ ১৭ বছর সাধারণ মানুষের কাছে যেতে দেয়নি। বিনা ভোটের সরকার বিগত দিনে এলাকার কোনো উন্নয়ন করেনি। মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় দেশ প্রথম স্বাধীন হয় এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়।’
মরহুম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ-এর প্রতি এলাকার আপামর জনসাধারণের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই তিনি ‘ফকির মজনু শাহ সেতু’সহ এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছিলেন। জীবদ্দশায় সব কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন শাহ রিয়াজুল হান্নান।
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়িত হলে জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন নিশ্চিত হবে। হান্নান শাহ পরিবার বংশপরম্পরায় কাপাসিয়ার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে। ভবিষ্যতেও যে কোনো পরিস্থিতিতে কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ।’
সবশেষে শাহ রিয়াজুল হান্নান সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন এবং দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। দল সরকার গঠন করলে কাপাসিয়ায় পরিবেশবান্ধব কলকারখানা স্থাপন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, মা-বোনদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা বৃদ্ধি এবং ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।