নিজস্ব প্রতিবেদক :: দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশায় গাজীপুর-২ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা রূপ নেয় জনসম্পৃক্ত এক বিশাল গণজমায়েতে। টঙ্গী, সালনা ও জয়দেবপুরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, পথচারী ও ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, হাত মেলানো এবং দোয়া চাওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মঞ্জুরুল করিম রনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জয়দেবপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘিরে বিভিন্ন মার্কেট ও সড়কে অনুষ্ঠিত গণসংযোগ ও মিছিল দ্রুতই এক আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার ক্ষোভ, গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং নির্বাচনী অংশগ্রহণের উচ্ছ্বাস সাধারণ মানুষের মুখে ও উপস্থিতিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। অনেক ভোটারই প্রার্থীকে কাছে পেয়ে নিজেদের আশাবাদ ও প্রত্যাশার কথা জানান।
গণসংযোগকালে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্র ছিল না। মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল এবং বিএনপিকে মামলা-হামলা, আন্দোলন ও জেল-জুলুমের মধ্য দিয়ে রাজনীতি করতে হয়েছে। তবে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে সেই দুঃশাসনের অবসান ঘটেছে এবং আজ দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৮ কোটি মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে।
পিতার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, অধ্যাপক এম. এ. মান্নান গাজীপুরের এমপি, মন্ত্রী এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র হিসেবে এই অঞ্চলের অবকাঠামো ও নাগরিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তার দেখানো আদর্শ ও পথ অনুসরণ করেই তিনি গাজীপুরকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও জনবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে গাজীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ১৯৯১ সালের মতো এবারও গাজীপুর-২ আসনে বিএনপি বিজয় অর্জন করবে।
গণসংযোগে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতির মধ্যে আরও ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মীর হালিমুজ্জামান ননী, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান, আহমদ আলী রুশদি, মেট্রো সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, মহানগর জিয়া পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম মোল্লা, সদর থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাসান আজমল ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, মহানগর বিএনপির সাবেক ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর হান্নান মিয়া হান্নু, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন তালুকদার, মেট্রো সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টুটুল, মেট্রো সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন, মহানগর কৃষক দলের সদস্য সচিব খান জাহিদুল ইসলাম, জমিয়াতে ইসলামের গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন, বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান রাজু, সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল খন্দকার সুমন, সাংবাদিক মাজহারুল ইসলাম কাঞ্চন, যুবনেতা আসলাম মিয়া, ফরহাজ বিন প্রবাল, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। প্রথম দিনের এই প্রচারণাই গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।