মো: রিয়াদ উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি:: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঢালজোড়া ইউনিয়নের ঐতিহাসিক চিনাইল পাগল ধাম আশ্রম প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী পৌষ সংক্রান্তির মেলা। প্রায় দুইশত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই মেলাটি এ অঞ্চলের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, তৎকালীন সাধক চিনাইল পাগল বাবা এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। তার স্মরণে প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে ভক্ত, অনুসারী ও সাধারণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই মেলা।
সময়ের পরিক্রমায় এটি শুধু ধর্মীয় উৎসবেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনোদনের এক বৃহৎ কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে।
মেলা উপলক্ষে ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা চিনাইল পাগল ধাম আশ্রমে আসতে শুরু করেছেন। মেলা প্রাঙ্গণে শত শত দোকানি তাদের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। খেলনা, চুড়ি-মালা, বাঁশ ও কাঠের তৈরি সামগ্রী, মাটির জিনিসপত্র, আসবাবপত্রের পাশাপাশি নাগরদোলা, নৌকা দোলা, চেয়ার ঘোরানি সহ শিশু ও তরুণদের জন্য নানা ধরনের বিনোদন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খাবার, মিষ্টান্ন ও পিঠার দোকানেও দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়। এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হস্তশিল্পীদের জন্য এটি একটি বড় আয়ের সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে মেলা আয়োজন নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারির কথা জানানো হয়েছে। গাজীপুর-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেয়র মুজিবুর রহমান আগামীকাল বুধবার বিকাল ৩টার সময় মেলাটি উদ্বোধন করবেন বলে মেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, মেলা কমিটির পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। সেই আবেদন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, যদি মেলা নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকে, তাহলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মেলা চলবে। তবে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে এবং প্রয়োজনে মেলাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
প্রশাসনের এমন অবস্থানে মেলাকে ঘিরে সাধারণ দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, ঐতিহ্যবাহী এই মেলা যেন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এটাই সকলের প্রত্যাশা। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহনকারী কালিয়াকৈরের পৌষ সংক্রান্তির মেলা এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক তদারকির সমন্বয়ে একটি স্মরণীয় আয়োজনে রূপ নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।