মো: রিয়াদ উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি:: পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফসি) আয়োজিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। ঘন কুয়াশা, হিমেল হাওয়া ও তীব্র শীতের প্রভাবেই মেলার প্রাঙ্গণে এখনো জমেনি প্রত্যাশিত ভিড়। আজ সোমবার সকালে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্টলে পণ্য সাজানোর কাজ শেষ হলেও এখনো কিছু স্টলের নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেলার প্রায় ১০ শতাংশ স্টল এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।
স্টল মালিকরা জানান, শীত ও কুয়াশার কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও সপ্তাহান্তে ক্রেতা সমাগম বাড়বে বলে তারা আশাবাদী। দেশি-বিদেশি নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত ১ জানুয়ারি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কারণে মেলার উদ্বোধন পিছিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করা হয়। তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়েই মেলার সূচিতে এই পরিবর্তন আনা হয়।
এবারের মেলায় পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী দেশীয় উৎপাদক ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান, সাধারণ ব্যবসায়ী এবং বিদেশি অংশগ্রহণকারীসহ মোট ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এবার ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অনলাইনে টিকিট কিনে কিউআর কোড স্ক্যান করে মেলায় প্রবেশের পাশাপাশি অন-স্পট টিকিট কেনার সুবিধাও থাকছে। যাতায়াত সহজ করতে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি কনসেশনাল রেটে ‘পাঠাও’ সার্ভিস যুক্ত করা হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বাণিজ্য মেলা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নিয়মিতভাবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতো। করোনা মহামারির কারণে ২০২১ সালে মেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।