June 4, 2026, 11:06 am

ছিনতাই বন্ধে টঙ্গী ফ্লাইওভারের তিন সিঁড়ি সাময়িক বন্ধ

Reporter Name
  • আপডেট Friday, December 12, 2025
  • 164 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: ধারাবাহিক ছিনতাইয়ে একাধিক খুন ও বহু পথচারী আহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুরের আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলী পর্যন্ত ফ্লাইওভারের পাঁচটির মধ্যে তিনটি সিঁড়ি বন্ধ করে দিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের চান্দনা গাজীপুর পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার মহাসড়কের যানজট দূর করতে ২০১২ সালে হাতে নেওয়া হয় বিআরটির এই প্রকল্প। কিন্তু আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীর চেরাগআলী পর্যন্ত ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার ফ্লাইওভারের কাজ সম্পন্ন হওয়া পর তা বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি সরকার বিআরটির এই প্রকল্পটিই আপাতত বন্ধ করে দেয়। এরপর টঙ্গীবাসী ফ্লাইওভারসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চারটি লেন খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এখনও চারটি লেন পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি। ফলে বিচ্ছিন্নভাবে চলছে যানবাহন। সম্প্রতি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীর স্টেশন রোড ও চেরাগআলী পর্যন্ত ফ্লাইওভারে বেড়েছে ছিনতাই।
এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। বিশেষ করে ফ্লাইওভার থেকে নিচে নামার সিঁড়িগুলোতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে। আব্দুলাহপুর থেকে টঙ্গীর চেরাগআলী পর্যন্ত মোট পাঁচটি সিঁড়ি রয়েছে। পথচারীদের ফ্লাইওভার থেকে নিচে নামার জন্য সিঁড়িগুলো নির্মাণ করেছিল বিআরটি। ফ্লাইওভার স্টেশনে নামার পর যে সিঁড়ি দিয়ে যাত্রীরা নিরাপদে ঘরে ফেরার কথা ছিল, সে সিঁড়িগুলোই এখন মারণফাঁদ।
ফ্লাইওভারে সংঘটিত সম্প্রতিক ছিনতাইয়ের বিবরণ বিশ্লেষনে দেখা যায়, কোনো যাত্রী গাড়ি থেকে নামার পর ছিনতাইকারীরা তাকে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ধাওয়া করে সিঁড়িতে এনে কুপিয়ে হতাহত করে বা সিঁড়ি দিয়ে ফ্লাইওভারে ওঠার সময় আক্রমণ করে। এ প্রক্রিয়ায় একাধিক হতাহতের ঘটনার পর সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিচারের দাবিতে আন্দোলন, মহাসড়ক ও থানা ঘেরাও এখন টঙ্গীর নিত্যদিনের ঘটনা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছিনতাই বন্ধে জিএমপি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীর চেরাগআলী পর্যন্ত ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার ফ্লাইওভারের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে তিনটি বন্ধ করে দিয়েছে।
আব্দুল্লাহপুর ও চেরাগআলীতে দুটি রেখে বাবি তিনটি সিঁড়ি আপাতত অস্থায়ীভাবে ইট দিয়ে প্রাচীর আকৃতির দেয়াল করে বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে খোলা রাখা দুটি সিঁড়িতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়ে। কিন্তু এই ফ্লাইওভারের ওপরে বা নিচে কোনো আলো বা সিসি ক্যামেরা না থাকায় ছিনতাইকারীরা সহজেই ছিনতাই করার কাজটি নিরাপদে করে আসছে।
তিনটি সিঁড়ি বন্ধ হলেও পুরো ফ্লাইওভারে এখনও আলো ও সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা হয়নি। শুধু সিঁড়ি বন্ধ নয়, আলো ও সিসি ক্যামেরাসহ পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই অপরাধ দমন সম্ভব নয় বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ।
এসব বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের(জিএমপি) অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ছিনতাই রোধে অস্থায়ীভাবে ফ্লাইওভারের তিনটি সিঁড়ি বন্ধ করা হয়েছে। জনগণ চাইলে খুলে দেওয়া হবে। ফ্লাইওভারে আলো ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধান জটিল হয়ে যাচ্ছে। বিআরটি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। গাজীপুর সিটিকরপোরেশনও কোনো উদ্যোগ নেয় না। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে যেন আলো ও সিসিক্যামেরা স্থাপন করে ও পুলিশ টহল আরো বাড়িয়ে ছিনতাই বন্ধ করা যায়।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর