স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের শ্রীপুরে এক মাদরাসায় বেঞ্চে বসা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জের ধরে ছয় সহপাঠীকে ছুরিকাঘাত করেছে এক শিক্ষার্থী। আহতদের উদ্ধার করে তিনজনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও দুজনকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের গাড়ারণ খলিলিয়া বহুমুখী ফাজিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী (১৪) ওই মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাড়ি একই ইউনিয়নের সাতখামাইর গ্রামে। আহতরা হলো একই মাদরাসার শিক্ষার্থী মো. লিয়ন, মো. মহিউদ্দিন, মো. নাজিম, মো. রিফাত, রিফাত আহমেদ ও নিলয়।
গত বুধবার পরীক্ষা চলাকালীন ওই শিক্ষার্থী (অভিযুক্ত) বেঞ্চে বসে এক সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলছিল। এতে বিরক্ত হয়ে আরো দুই সহপাঠী তাকে বেঞ্চ থেকে সরে যেতে বলে। তা নিয়ে তাদের মধ্যে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি হাতাহাতি পর্যায়ে গড়ালে শিক্ষকদের মধ্যস্থততায় তাৎক্ষণিক তা মিটে যায়।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাউসার আহমেদ জানায়, আজ বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছুরি হাতে মাদরাসার ছাদে সহপাঠীদের ডাকে। টের পেয়ে সেখান থেকে তাকে নামিয়ে দেন শিক্ষকরা। পরে পরীক্ষা শেষে দুপুর প্রায় ১টার দিকে কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর হামলা চালায় ওই শিক্ষার্থী। কাউসার অভিযোগ করে, একে একে ছয় শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করে পূর্ব থেকে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় উঠে পালিয়ে যায়।
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও তিনজনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসরিন জামান বলেন, পাঁচজন শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, ঘটনা জেনে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।