মোঃ আক্তার হোসেন ঢালি বিশেষ প্রতিনিধিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহর কবর জিয়ারত করেছেন নবনির্বাচিত ডাকসুর নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার সকালে তাঁরা পুরান ঢাকার শাহজাহানপুরে অবস্থিত নবাব পরিবারের কবরস্থানে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঃ
নবাব সলিমুল্লাহ ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও রাজনৈতিক দূরদর্শী নেতা। তিনি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করেছিলেন পূর্ববাংলার উন্নয়ন এবং মুসলমান সমাজের শিক্ষাগত ও সামাজিক অগ্রগতির স্বার্থে। তাঁর প্রত্যক্ষ উদ্যোগে ঢাকায় একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গুরুত্ব পায়, যা ১৯২১ সালে বাস্তবায়িত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপে।
তৎকালীন সময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবেই নয়, বরং শিক্ষায় পৃষ্ঠপোষকতার কারণে নবাব সলিমুল্লাহকে বাংলাদেশের শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ বলা হয়। তিনি কেবল মুসলিম সমাজের মধ্যে নয়, সমগ্র পূর্ববাংলায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।
ডাকসু নেতাদের বক্তব্যঃ
কবর জিয়ারতের পর ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতারা বলেন,
“নবাব সলিমুল্লাহর অবদান ছাড়া আমরা হয়তো আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পেতাম না। তিনি শুধু স্বপ্ন দেখেননি, বরং সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সংগ্রাম, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং সামাজিক নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মানে আমাদের দায়িত্বকে নতুনভাবে উপলব্ধি করা।”
তাঁরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব ও ঐতিহ্য রক্ষায় নবাব সলিমুল্লাহর আদর্শ অনুসরণ করে তাঁরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবেন।
নতুন দৃষ্টান্তঃ
এক শতাব্দীর বেশি সময় আগে নবাব সলিমুল্লাহ যে বীজ বপন করেছিলেন, তার ফল আজকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতির অগ্রযাত্রার নেতৃত্ব দিয়েছে।
এই প্রথমবার ডাকসুর পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব তাঁর কবর জিয়ারত করল, যা শিক্ষার্থী সমাজের কাছে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।