স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুর মহানগরের গাছাতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আশিক চৌধুরীকে (৩২) কুপিয়ে দেড় লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। গত শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টায় মহানগরের গাছা থানাধীন গাছা রোডের পূর্ব পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর এ ঘটনা ঘটে।
আশিক চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের আলম চৌধুরীর ছেলে। তিনি ইনসেপ্টা কোম্পানিতে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ (এমআর) পদে কর্মরত। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে গাজীপুর পপুলার হাসপাতাল (বড়বাড়ী) পরে তাইরুননেছা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (তারগাছ) নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসা জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়।
আশিক জানান, অটোরিকশায় করে গাছা সড়কের মাথায় আসলে আগে থেকেই রিকশায় থাকা যাত্রীবেশী তিন ছিনতাইকারী আমার কাছে এসে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আমি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা চাপাতি এবং দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে ছিনতাইকারীরা আমার কাছ থেকে নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। গত সোমবার (১৮আগস্ট) দুপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করে স্থানীয় ওষুধ ব্যাবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
স্থানীয় ওষুধ ব্যাবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা বলেন, ছিনতাইকারী চক্রদের নিশ্চিহ্ন করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে । আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দাবি করে তারা বলেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করা না হলে আগামীতে পুরো গাজীপুরে ওষুধ সাপ্লাই বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত শনিবার (১৬ আগস্ট) রাতে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনা ঘটে। আহত ভিকটিমকে হাসপাতালে চিকিৎসার পর সকাল ১০টার দিকে স্বজনেরা তাকে বাসায় নিয়ে গেছেন। অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছি । গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো: রুবেল আহম্মেদ (২৮) ও মো: নজরুল ইসলাম নইজা (৩৮) । রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে। মালামাল উদ্ধার ও সকল ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারাভিযান চলমান বলেন তিনি। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। এই চক্রের সাথে আর কোনো সদস্য জড়িত আছে কিনা, সে বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।