July 4, 2026, 8:31 pm

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ উদ্বোধন

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, August 16, 2025
  • 137 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে নগরের পতেঙ্গায় পদ্মা অয়েল ডিপোতে ডেসপাস টার্মিনালে সুইচ টিপে সরাসরি জ্বালানি তেল পরিবহন উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহনে প্রায় তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের ২৪১ দশমিক ২৮ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন এবং গোদনাইল থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি ব্যাসের ৮ দশমিক ২৯০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। সব মিলিয়ে ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পাইপলাইন গেছে দেশের ২০টি নদী ও খালের মধ্য দিয়ে। এ জন্য মোট ৯টি স্টেশন তৈরি হয়েছে, যার জন্য ২৮৬ দশমিক ৮৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের সীমিত সম্পদের কথা মাথায় রেখে অপচয়, দুর্নীতি কমাতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নের আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে প্রকল্প ব্যয় বেশি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব। কিন্তু আপনি যেকোনো ইন্ডিকেটর নেন, দেখবেন আমাদের সড়ক নির্মাণ ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বেশি।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন করা হবে। রাষ্ট্রের এ প্রকল্প প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে সম্পর্কিত। আধুনিক বিশ্বের উন্নয়নের ভিত্তি প্রযুক্তিগত উন্নতি। মনে রাখতে হবে, আমাদের সম্পদ কিন্তু খুব একটা বেশি নেই।
কিছু প্রাকৃতিক গ্যাস ছিল, সেটা এখন ফুরিয়ে আসছে। মানবসম্পদ ছাড়া উল্লেখযোগ্য সম্পদ আর নেই। সে ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নতি দিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
জ্বালানি উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আমাদের সম্পদ এমনিতেই কম, আর যা আছে অপচয় আর দুর্নীতির কারণে সেটারও সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারছি না। আমরা যদি দুর্নীতি ও অপচয় কমাতে পারি, আর প্রযুক্তিগত উন্নতি করতে পারি তাহলে বিপুল জনসংখ্যার জন্য গ্রোথ অ্যাচিভমেন্ট সম্ভব হবে।’
তিনি বলেন, ‘আগে পেট্রোলিয়াম প্রডাক্ট আমদানি খাতে চার-পাঁচজন বিড করতে পারত। আমরা এটা পরিবর্তন করেছি, ফলে এখন ১০-১২টি প্রতিষ্ঠান বিড করে। আমরা বছরে ১৪০০-১৫০০ কোটি টাকা সেভ করতে সক্ষম হয়েছি।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মু. হাসান-উজ-জামান। বক্তব্য দেন বিপিসির পরিচালক ড. এ কে এম আজাদুর রহমান।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, পাইপলাইনটির বার্ষিক পরিবহন ক্ষমতা ২ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন। ভবিষ্যতে পাঁচ মিলিয়ন মেট্রিক টন পর্যন্ত পরিবহন ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। প্রতি ঘণ্টায় ৩৫০ মেট্রিক টন তেল পরিবহনের সক্ষমতা আছে এ পাইপলাইনের। আগে তেলবাহী ট্যাংকারের মাধ্যমে নৌপথে জ্বালানির বড় অংশ পরিবহন করা হতো। এতে প্রতি মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে জলপথে জ্বালানি পরিবহনের জন্য ১১০টিরও বেশি জাহাজের প্রয়োজন হয়।
কর্মকর্তারা আরো জানান, তেল পরিবহনে বিপিসির বার্ষিক খরচ প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা। কিন্তু পাইপলাইন চালু হওয়ার পর খরচ নেমে আসবে মাত্র ৯০ কোটি টাকায়। এতে বছরে অন্তত ২৩৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া সিস্টেম লস এবং চুরি ঠেকানোর মাধ্যমেও খরচ সাশ্রয় হবে। আগে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত তেল নিতে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতো। এখন সেটা ১২ ঘণ্টায় নেমে আসবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর