July 4, 2026, 8:08 pm

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, August 13, 2025
  • 76 জন দেখেছে
হযরত মাওলানা মুহম্মদ আবুল বাশার:: হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ১২ জন ইমাম উনাদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন ২য়।  উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক হচ্ছে হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম। উনার খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট্য ফযিলত মুবারক বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর লক্বব মুবারকেরতো কোন শেষ নেই, উনি হচ্ছে সাইয়্যিদ,উনি হচ্ছেন রায়হান,মুত্বহার মুত্বহির এক কথায় আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মান ফাযায়িল ফযিলত বুযূর্গী সম্মান মুবারক হচ্ছেন যিনি খ্বলিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত। আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সবিই। সুবহানাল্লাহ ।উনার অনেক খুছুছিয়ত মুবারক, তিনি হচ্ছেন সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাতী এবং নাতনী উনারা ১০ জন উনাদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন চতুর্থতম।
এবং প্রাথমিক ভাবে তিনি হচ্ছেন একজন ছাহাবী এরপর হচ্ছেন আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এরপর হচ্ছেন আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, আবার তিনি হচ্ছেন ২য় ইমাম, আবার তিনি হচ্ছেন ৫ম খলীফা আলাইহিমুস সালাম। আবার বলা হচ্ছে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ উছিলা মুবারক, অর্থাৎ  সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম দিয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত কিছু কবুল করে থাকেন। আবার তিনি হচ্ছেন, সাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ অর্থাৎ উনি বেহেস্তে যারা যুবক থাকবেন উনাদের সাইয়্যিদ। সুবহানাল্লাহ।
উনার খুছুছিয়তের কোন শেষ নেই।উনার যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিতা তিনি হচ্ছেন,হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম ইমাম,ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম। উনার নাম মুবারক হচ্ছেন, হযরত আলী আলাইহিস সালাম।আর উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাতা তিনি হচ্ছেন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক হচ্ছেন,হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম।এবং বংশগত দিক থেকে তিনি হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ বংশ মুবারক উনার অধিকারী। কুরাইশ বংশ হাশেমী শাখা।উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস সম্পর্কে সাইয়্যিদুনা  মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন,তিনি তৃতীয় হিজরী শরীফের ১৫ ই রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল আরবিয়া অর্থাৎ  বুধবার বাদ আছর বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নরম খেজুর দিয়ে তাহনিক মুবারক করান।
উনার সম্মানিত ভাই এবং বোন উনারা ৩ জন ৩ জন মোট ৬ জন। তিনি বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন তৃতীয় হিজরীতে আর ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম অর্থাৎ  সাইয়্যিদুনা হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি ৪র্থ হিজরীতে, এরপর ৩ জন বোন হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম তিনি ৫ম হিজরীতে, হযরত রুকাইয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি ৬ষ্ট হিজরীতে, হযরত উম্মে কুলছুম আলাইহাস সালাম তিনি ৭ম হিজরীতে আর একজন ভাই হযরত ইমাম মুহসিন আলাইহিস সালাম
তিনি ৯ম হিজরীতে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।  সুবহানাল্লাহ । উনাদের মধ্যে হযরত ইমাম মুহসিন আলাইহিস সালাম এবং হযরত রুকাইয়াহ আলাইহাস সালাম উনারা অল্প বয়স মুবারকে বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর বাকী  ৪ জন উনাদের মধ্যে দুনিয়ার যমিনে কম সময় অবস্থান মুবারক করেন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম অর্থাৎ হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি । সুবহানাল্লাহ ।
উনার খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট ফযিলত মুবারক হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে, উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন,একদিন শীতের সকালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কালো পশমী চাদর মুবারক পরিহিত আছেন।
এমন সময় ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম এরপর সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এবং ইমামুল আউওয়াল হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারাও আসলেন উনাদেরকে তিনি  চাদর মুবারকের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে নিলেন এরপর উনাদের জন্য দুয়া মুবারক করলেন। ইন্নামা ইউরিদুল্লাহু লি ইউজ হিবা আনকুমুর রিযসা আহালাল বাইতি ওয়া ইউ ত্বহিরাকুম ত্বাতহিরন। আল্লাহ পাক উনারা আমার আহলু বাইত শরীফ আপনি উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করুন। অর্থাৎ উনাদেরকে পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করা হয়েছে ।
উনার আহালিয়ার সংখ্যা সঠিকভাবে জানা যায়নি । তবে ৪ জনের অধিক কোন সময় ছিলেন না
আর উনার আল আওলাদ হচ্ছেন ৩০ জন উনাদের মধ্যে ২৩ জন হচ্ছেন ছেলে আওলাদ আর ৭জন মেয়ে আওলাদ । উনার বুলন্দী শান মুবারক বলার অপেক্ষা রাখেনা ,স্বয়ং যিনি খ্বলিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,(ওয়া রফা না লাকা যিকরক)যদিও এই সম্মানিত আয়াত শরীফ নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে নাযিল হয়েছে এর অর্থ হচ্ছে আপনার আলোচনা মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করা হয়েছে, অর্থাৎ আপনার শান মুবারক অত্যান্ত বুলন্দ।
এই আয়াত শরীফের মিছদাক হচ্ছেন হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাও।  সুবহানাল্লাহ ।
এ বিষয়ে অনেক হাদীছ শরীফে ওয়াকেয়া মুবারক রয়েছে তার মধ্যে একটা হচ্ছে, শুনলেই বুঝা যাবে,
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে কতটুকু মুহব্বত মুবারক করতেন আবার ঠিক একই ভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও কতটুকু মুহব্বত মুবারক করতেন,একদিন ঈদের সকালে, ঈদের দিন সকালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নামায পড়তে যাবেন তখন ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং ইমামুছ ছালিছ মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, অর্থাৎ উনারা এসে বললেন ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেকে আজ সকালে নতুন কোর্তা মুবারক দিতে হবে। শুধু নতুন না আমাদেরকে জান্নাতী কোর্তা দিতে হবে পোশাক দিতে হবে।
শুধু যদি নতুন হতো তাহলে কিনে এনে দেয়া যেত। কিন্তুু উনারা চান জান্নাতী পোশাক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিছু বললেন না চুপ থাকলেন,  শুধু শুনলেন। যেতেতু তিনি ঐহি মুবারক ব্যতীত কোন কথা বলেন না, কোন কাজ করেন না। ঠিক এমন সময় হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন উনার হাত মুবারকে দুটি সাদা রঙ্গের কোর্তা মুবারক তিনি বললেন ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি খ্বলিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের জন্য জান্নাতী পোশাক মুবারক পাঠিয়েছেন।নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, কোর্তা মুবারক দুটি যদি সাদা রঙ্গের না হয়ে অন্য কোন রঙ্গের হতো তাহলে উত্তম হতো। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার জন্য যদি এক বালতি পানির ব্যবস্থা করা হতো তাহলে আমি একটা ব্যবস্থা করতাম। উনাকে এক বালতী পানি দেয়া হলো তিনি কোর্তা মুবারক দুটি পানিতে চুবালেন এরপর তুললেন একটা হলো সবুজ রঙের আর একটা হলো খয়েরী রঙের। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেকে বললেন আপনাদের যেটা পছন্দ আপনারা সেটা গ্রহন করুন। ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবুজ রঙেরটা আর ইমামুছ ছালিছ মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খশেরী রঙ্গেরটা গ্রহণ করলেন।তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখানে উনাদের শান মুবারক যাহির হয়েছে। যেহেতু ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনাকে মুনাফিকরা বিষের মাধ্যমে শহীদ করবে এ জন্য সাধারনতো মানুষ বিষ পান করলে একটু সবুজ রঙ ধারন করে। আর ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি রক্ত মুবারক প্রবাহিত হয়ে এই খয়েরী রঙ ধারন করবেন এ জন্য তিনি এই রংটা নিয়েছেন।তাহলে  উনাদের শান মান ফযিলত মুবারক কতটুকু। উনারা চেয়েছেন নতুন কোর্তা মুবারক দিতে হবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধু শুনেছেন কিছু বলেন নি। সাথে যিনি খ্বলিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যম দিয়ে দুটি জান্নাতী কোর্তা মুবারক পোশাক মুবারক পাঠিয়ে দিলেন।
সুবহানাল্লাহ। হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আল্লাহ পাক আমি উনাকে অর্থাৎ ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনাকে  মুহব্বত মুবারক করি আপনিও উনাকে মুহব্বত মুবারক করুন। আর একখানা হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আল্লাহ পাক আমি উনাকে মুহব্বত মুবারক করি আপনিও উনাকে মুহব্বত মুবারক করুন এরপর বললেন উনাকে যারা মুহব্বত মুবারক করবে আপনি তাদেরকেও মুহব্বত মুবারক করুন।  সুবহানাল্লাহ ।
তাহলে উনার ফযিলত মুবারক কতটুকু। উনার ছুরত মুবারক সম্পর্কে একখানা হাদীছ শরীফ বর্ননা করা হয়েছে,ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি নিজেই এই সম্মানিত হাদীছ শরীফখানা বর্ননা করেছেন, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সিনা মুবারক থেকে মাথা মুবারক অর্থাৎ শের মুবারক পর্যন্ত হুবহু।  সুবহানাল্লাহ।আর ইমামুছ ছালিছ মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সিনা মুবারক থেকে কদ্বম মুবারক পর্যন্ত হুবহু। সুবহানাল্লাহ ।
এ জন্য ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন আসতেন উনাকে দূর থেকে অনেকেই মনে করতেন,  নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আসছেন। এটা উনার একটা বুলন্দী শান মুবারক। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুবহু জাহির এবং বাতিন সব দিক থেকেই সে বিষয়টি এখানে প্রকাশ করা হয়েছে। আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উনাদের যে শাহাদাতী শান মুবারক উনার মাধ্যম দিয়ে শাহাদাতী শান মুবারকটা সম্মানিত করা হয়েছে। উনার আর একটা শান মুবারক বলা হয়, তিনি যখন বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন তখন উনাকে দুগ্ধ মুবারক পান করানোর জন্য হযরত উম্মে ফযল আলাইহিস সালাম উনাকে দায়িত্ব মুবারক দেয়া হল। একদিন ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোল মুবারকে দিলেন। তিনি উনার নুরুছ শিফা মুবারক অর্থাৎ ছোট ইস্তেন্জা মুবারক করলেন। উনি করছেন কিন্তুু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ধরে রেখেছিলেন নড়াচড়া করেন নি। নড়াচড়া করলে হয়তো উনার অসুবিধা হতে পারে। এ জন্য তিনি নড়াচড়া করেন নি।
এদিকে উম্মে ফযল আলাইহিস সালাম তিনি এটা দেখে আস্তে করে উনার পিঠ মুবারকে একটু চাপ দিলেন উনার উদ্দেশ্য হলো, আপনি কি করলেন তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এটা লক্ষ করলেন। এবং বললেন আপনি এটা কি করলেন আপনি আমার আওলাদ উনাকে চাপ দিলেন, কেন আপনি চাপ দিলেন।  আমিতো উনাকে ধরেই রেখেছি। তখন তিনি বললেন, ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমিতো বুছতে পারিনি উনাকে সতর্ক করার জন্য আমি করেছি। পরে তিনি ক্ষমা চাইলেন। বলার বিষয় হচ্ছে, উনার জিসিম মুবারকে চাপ দেয়া হয়েছে এটা কিন্তুু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বরদাস্ত করলেন না।তাহলে এখান থেকে প্রমানিত হয় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কতটুকু মুহব্বত মুবারক করতেন। এবং উনাদের কষ্ট, তাখলিফ তিনি বরদাস্ত করতেন না।
মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন, ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি বলে দিন সমস্ত সৃষ্টিকে, কি বলে দিবেন ?আপনি বলে দিন যে, আমি তোমাদের নিকট কোন বিনিময় চাচ্ছি না বিনিময় চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয় আর তারা দিতেও পারবে না। দেয়ার নিয়ত করলেও কুফরী হবে।এরপর বললেন আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হলো, তোমরা আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত মুবারক করো। এরপর বলছেন, আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা এই নেকিটা যে হাছিল করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন আমি তাদের নেকিগুলো দ্বিগুন বহুগুনে বৃদ্ধি করে দিব। সুবহানাল্লাহ । নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল এবং মর্যাদাদানকারী, মর্যাদাবৃদ্ধিকারী । হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত মুবারক করার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই আদেশ করেছেন। এবং বলেছেন উনাদেরকে যারা মুহব্বত করবে তাদের নেকিগুলোকে দ্বিগুন বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ।এবং তাদের গুনাহখতা সবগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং তাদের মর্যাদা বুলন্দ করে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ । তাহলে ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মান ফাযায়িল ফযিলত বুযূর্গী সম্মান মুবারক কত বেমেছাল
তা কায়িনাতের সৃষ্টির কল্পনার ও উর্ধে।আর একটা ওয়াকেয়া মুবারক বলা হয় হযরত ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালাম উনাদের খিদমত থেকেও উনারা পবিত্র। কত পবিত্র সেটা হচ্ছে ,হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ২৩ বছর রেসালতের জিন্দেগী মুবারকে ২৪ হাজার বার সাক্ষাত করেছেন।শেষের দিকে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি হযরত দাহইয়াতুল ক্বলবী রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ছুরত মুবারকে অর্থাৎ চেহেরা মুবারকে আসতেন এটা সপ্তম হিজরীর শেষের দিকে।একদিন তিনি আসলেন বিশেষ কিছু সংবাদ পৌছানোর জন্য  তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আলোচনা করছিলেন এমতাবস্থায় সেখানে ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং ইমামুছ ছালিছ মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা আসলেন, এসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাশে বসলেন।
এরমধ্যে উনারা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার কাছে যেতে চাচ্ছিলেন কিন্তুু তিনিতো হযরত দাহইয়াতুল ক্বলবী রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ছুরত মুবারকে এসেছেন যেন দেখলে উনাকে কেউ না চিনে।কিন্তুু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১বার ২বার ৩বার উনাদেরকে বসিয়ে রাখলেন। এটা দেখে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি বুঝতে পারলাম না।  তিনি বললেন কি বুঝতে পারেনি, তিনি বললেন উনারা আমার কাছে আসতে চাচ্ছেন কিন্তুু আপনি বসিয়ে রাখছেন এর হাক্বিক্বীটা কি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনিতো হযরত দাহইয়াতুল ক্বলবী রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ছুরত মুবারকে এসেছেন উনি সাধারনতো আসলে উনাদেরকে মুহব্বত করে কোলে নিতেন এবং উনাদের জন্য কিছু হাদিয়া তৌহফা নিয়ে আসতেন। এ জন্য আপনার কোলে যেতে চেয়েছিলেন আমি উনাদেরকে বসিয়ে রেখেছি।এটা শুনে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি দয়া করে আমাকে একটু সময় দান করুন আমি এখনই আসবো।
ঠিকই তিনি কিছুক্ষন পরেই আসলেন দুই থোকা আঙ্গুর নিয়ে। এসে উনাদেকে হাদিয়া দিলেন।এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবই জানেন কিন্তুু উনাদের বুলন্দ শান মুবারক প্রকাশ করার জন্য বললেন, আপনি এতো তাড়াতাড়ীএটা কোথা থেকে আনলেন। তিনি বললেন ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের যেই দুজনের দুটা জান্নাত আছে সেখান থেকেই এই আঙ্গুর ফলগুলো এনেছি। সুবহানাল্লাহ ।এখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের আর একটু শান মুবারক প্রকাশ করার জন্য বললেন, তাহলে নিশ্চয় আপনার কিছু তাখলিফ ( কষ্ট ) হয়েছে আপনি কিছু মনে করবেন না তখন তিনি বললেন ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি মনে করবো কেন আমরাতো উনাদের খাদেম।হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদাতুন নিসাইল আলামিন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম বা উনারা যখন গরমের জন্য ঘুমাতে পারেন না তখন আমাদের দায়িত্ব হয়ে যায় আমাদের পাখা গুলি দিয়ে উনাদেরকে বাতাস করা। তখন আমরা উনাদেকে বাতাস করি।
আমি কিছু মনে করবো কেন আমিতো উনাদের খাদেম উনাদের খিদমতের জন্যইতো আমি সবসময় প্রস্তুুত। আমি সেই খিদমতটাই করেছি। সুবহানাল্লাহ।এরপর বললেন যখন উনারা ঘুমাতে পারেন না তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে আদেশ করেন আমরা যেন আমাদের পাখা দিয়ে উনাদেকে বাতাস করি। সুবহানাল্লাহ।
তাহলে ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মান ফাযায়িল ফযিলত বুযূর্গী সম্মান খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট মুবারক কতটুকু। যা বান্দা বান্দী জ্বীন ইনশান তাদের কল্পনার বাইরে। উনাদের নিসবত কুরবত মুহব্বতটাই হচ্ছে মূল।আর একটা ওয়াকেয়া মুবারক বলা হয়, একদিন সকাল বেলা সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে আসলেন এসে বললেন ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম এবং ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনারা দুজনকে কোথায় পাওয়া যাচ্ছে না। উনারা কোথায় যেন চলে গেছেন। তখন তিনি বললেন, ঠিক আছে এই বলে তিনি বের হলেন উনাদেরকে খুজার জন্য উনারা কোথায় আছেন সেটা দেখার জন্য ।উনার সাথে ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি এবং অনেক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও আছেন ঠিক এমন সময় হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি উপস্থিত হলেন বললেন ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি কোথায় যাচ্ছেন, তিনি বললেন ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম এবং ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদেকে আজ সকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।তখন তিনি বললেন উনারা আছেন বনি নাজির মহল্লাহ।  উনারা সেখানে রয়েছেন।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি এবং কিছু ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সেখানে গেলেন।যেয়ে দেখেন ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং ইমামুছ ছালিছ মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা বনু নাজির মহল্লায় এক স্থানে ঘুমাচ্ছেন।
একজন ফেরেস্তা তিনি উনার পাখা বিছিয়ে দিয়েছেন। সেই পাখার উপর উনারা ঘুমাচ্ছেন। আর একজন ফেরেস্তা পাখা দিয়ে বাতাস করছেন। সুবহানাল্লাহ।  তাহলে উনাদের বুলন্দ শান মুবারক কতটুকু। উনারা সেখানে ঘুমিয়েছেন, কোথায় ঘুমাবেন, বিছানাতো নাই, হযরত ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালাম উনারা পাখা বিছিয়ে দিয়েছেন। তখন উনারা সেখানে ঘুমাচ্ছেন। আবার গরম লাগতে পারে এ জন্য একজন ফেরেস্তা তিনি বাতাস করছেন।
সুবহানাল্লাহ ।তিনি ৪০ হিজরী শরীফের ১৮ ই রমাদ্বান শরীফ খিলাফতী শান মুবারক গ্রহন করেন।উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস সম্পর্কে সাইয়্যিদুনা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সমস্ত কায়িনাতকে ইলিম মুবারক দান করেন। সেটা হচ্ছে ,কাফের মুশরিক এবং মুনাফিকেরা সবসময় চাইতো উনাকে শহীদ করার জন্য।মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক নবী এবং রসূল উনাদের শত্রুু ছিল ফাসেক ফুজ্জারদের থেকে,  আর জ্বীন ইনসানের মধ্যে থেকে শয়তান প্রকৃতির যারা তাদের থেকে।
ঠিক আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও শত্রুু ছিল।
ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে একে একে ৫ বার তারা বিষ পান করিয়েছিল। উনি প্রতিবারই বিষ পান করার পরে সরাসরি রওজা শরীফে গিয়ে দোয়া করার সাথে সাথে বিষগুলির কৃয়াটা নষ্ট হয়ে যায়।এখন এই কাফের মুনাফিকরা তারা দেখলো কোন মতেই কোন কাজ হচ্ছে নয়। তখন তারা চিন্তা করলো কঠিন কিছু করা যায় কিনা। ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদত বা অব্ভাস ছিল তিনি যখন রাতে তাহাজ্জুদের নামায পড়তে উঠতেন তখন তিনি পানি পান করতেন। পানির একটা সুরাই ছিল, সুরাই হচ্ছে পানির পাত্র কিন্তুু এটা ছিল লম্বা সেটার মাথায় একটা কাপড় বেধে রাখতেন কেউ যেন ভিতরে কিছু ফেলতে না পারে। কিন্তুু এই কাফের মুনাফিকগুলি এই কাপড়ের মধ্যে হিরক চুর্ন বিষ যেটা বলা হয়েছে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্বক বিষ।
এই বিষ তারা কাপড়ের মধ্যে দিয়েছিল এটা দেখা যায় নি, তিনি যখন রাতে উঠে পানি পান করলেন তখন পান করার পর তিনি বুঝতে পারলেন মারাত্বক বিষ পান করেছেন । তখন উনার পক্ষে রওযা শরীফ যাওয়া সম্ভব হয়নি। তখন উনার ভাই  ইমামুছ ছালিছ মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিলেন তিনি আসলেন,  তখন উনাকে কিছু নছিহত করলেন। বললেন আমার সময় শেষ আমাকে চলে যেতে হবে। তখন ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন আপনার কি হয়েছে তিনি বললেন এই সুরাই থেকে আমাকে বিষ পান করানো হয়ছে।  তিনি বললেন আমি একটু পান করে দেখবো তিনি বললেন আপনাকে পান করতে হবে না এই বলে তিনি সুরাইটাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন মাটিতে পড়ে গেল যমিনটা ছিল মাটির এতো মারাত্বক বিষ দেখা গেল যমিনটা ফেটে চৌচির হয়ে গেল আবার পানির বলক আসলে পানি যেইভাবে উতলাতে থাকে সেই রকম হয়ে গেল। নাউযুবিল্লাহ।
এরপর বললেন আমি যে খিলাফতের শর্ত দিয়েছিলাম হযরত মুয়াবিয়া রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে আপনি এটা তুলে নিবেন। উনাকে বলে দিবেন আমাদের খিলাফত দরকার নাই। এবং আপনি তালিম তালকিনে মশগুল থাকবেন। এরপর বললেন আমার সময় শেষ। আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি আজ রাতে। ইমামুছ ছালিছ মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি স্বপ্ন দেখেছেন আপনি। তিনি বললেন আমি স্বপ্ন দেখেছি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সাথে আমার পিতা এবং মাতা উনারা তাসরীফ মুবারক এনেছেন ( উনারা আমাকে সাক্ষাত দিলেন ) আমাকে বললেন আপনি কিছুক্ষনের মধ্যেই আমাদের কাছে  চলে আসবেন আপনি ধের্যধারন করুন। আমরা আপনার জন্য অপেক্ষমান। এই বলে উনারা অদৃশ্য হয়ে গেলেন। উনার ঘুম ভেঙ্গে গেল তিনি চিন্তা করলেন আমি এটা কি দেখলাম এরপর উনি পানিটা পান করলেন। ৪৯হিজরীর ২৮শে ছফর শরীফ তিনি শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহন করেন। তিনি ৪৫ বছর ৫ মাস ১৩ দিন যমিনে অবস্থান মুবারক করেন। উনার রওযা শরীফ জান্নাতুল বাকী শরীফে অবস্থিত। উনার জানাযায় জান্নাতুল বাকী শরীফে এত পরিমান লোক উপস্থিত হয়েছিল যে, যদি উপর থেকে একটি সুচ জান্নাতুল বাকী শরীফে নিক্ষেপ করা হত তাকলে কোন না কোন মানুষের মাথায় পড়তো। তিনি পায়ে হেটে ১৫বার হজ্জ সম্পাদন করেন। সুবহানাল্লাহ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর