কেন্দ্রী শহীদ মিনারে সংসদ সদস্য ও অভিনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন খান দুলু ওরফে চিত্রনায়ক ফারুকের প্রতি সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ মে) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে উত্তরার বাসা থেকে মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসা হয়। এ সময় তাকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোসহ আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানায়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে এই শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়।বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসা হয় চিত্রনায়ক ফারুকের মরদেহ। এ সময় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে লাশ গ্রহণ করা হয়। পরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে রাখা হয়।
বেলা ১২টার দিকে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষে কমডোর এম এম নাঈম রহমান শ্রদ্ধা জানান। পরে আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নার চাঁপা ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
এরপর ধাপে ধাপে সংস্কৃতি মন্ত্রী কে এম খালিদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় কবিতা পরিষদ, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ফারুকের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফারুকের মরদেহ দুপুর ২টায় এফডিসিতে নেওয়া হবে। সবশেষে তাকে গুলশান আজাদ মসজিদে ৩টায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আসরের নামাজের পর তার প্রথম জানাজা হবে। এরপর গাজীপুরের কালীগঞ্জে আরেক দফা জানাজা শেষে দক্ষিণ সোম টিওরি পাকা জামে মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আকবর হোসেন পাঠান ফারুক।
মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। এর আগে সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে বিএস-৩০৮ ফ্লাইটটি নায়ক ফারুকের মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
সোমবার (১৫ মে) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন চিত্রনায়ক ফারুক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী ফারজানা পাঠান, কন্যা ফারিহা তাবাসসুম পাঠান ও পুত্র রওশন হোসেন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ অসংখ্য ভক্তবৃন্দ রেখে গেছেন।
স্বজনরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ফারুক। এর মধ্যে দুবার তার মৃত্যুর গুজব ছড়ায়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২০২১ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে যান তিনি। সেখানে রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়লে তিনি মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হন। সিঙ্গাপুরে প্রায় চার মাস ধরে আইসিইউতে ছিলেন চিত্রনায়ক ফারুক। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় মাস ছয়েক আগে তাকে কেবিনে নেয়া হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।