ক্রীড়া ডেস্ক :: শ্রীলঙ্কার দেয়া ছোট লক্ষ্য তাড়ায় পাওয়ারপ্লেতেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে চতুর্থ উইকেটে বড় জুটি গড়ে শঙ্কার মেঘ কাটিয়ে দেন তাওহীদ হৃদয় এবং লিটন দাস। দ্রুত সময়ে এই দুই ব্যাটার আউট হলে আবারও চাপে পড়ে টাইগাররা। তবে সেই চাপ কাটিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে আজ শনিবার (৮ জুন) শ্রীলঙ্কাকে ২ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার দেয়া ১২৫ রান তাড়া করতে নেমে ১ ওভার হাতে রেখে জিতেছে টাইগাররা।
এর আগে লঙ্কানদের দেয়া ১২৫ রানের লক্ষ্যে আজ টাইগারদের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন তানজিদ তামিম ও সৌম্য সরকার। তবে ব্যাট হাতে শুরুটা রাঙাতে পারেননি সৌম্য। ব্যাটিং ইনিংসের তৃতীয় বলেই শূন্য রান করে সাজঘরের পথ ধরেছেন সৌম্য সরকার। ধনঞ্জায়া ডি সিলভার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার মুঠোবন্দী হয়ে আউট হন তিনি। এরপর টাইগারদের আরও চাপের মুখে ঠেলে দেন তরুণ তামিম। নুয়ান তুষারার বলে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বোল্ড আউট হন এই ওপেনারও। ফলে প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ক্রিজে লিটনের সঙ্গী হন অধিনায়ক শান্ত। দুজন মিলে দেখেশুনে খেলতে থাকেন লঙ্কান বোলারদের। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ প্রথম বাউন্ডারির দেখা পায় ইনিংসের পঞ্চম ওভারের শেষ বলে। এরপর ষষ্ঠ ওভারেই বিদায় নেন শান্ত।
ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে তুষারার বলে আসালাঙ্কার মুঠোবন্দী হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন টাইগার অধিনায়ক। শান্তর বিদায়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের হাল ধরেন লিটন-হৃদয় জুটি। এ দুজন মিলে লঙ্কান বলারদের দেখেশুনে খেলে গড়েছেন ৬৩ রানের জুটি। একপ্রান্তে লিটন ধরে খেললেও অপরপ্রান্তে আগ্রাসী ছিলেন হৃদয়।
তবে দলীয় ৯১ রানে হাসারাঙ্গার বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে আউট হন হৃদয়। তবে ফেরার আগে ৪ ছয় ও এক চারে ২০ বলে ৪০ রান করেন তিনি। তাঁর মারকুটে ব্যাটিংয়েই জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। এদিকে হৃদয় ফেরার পর আউট হন লিটনও। এরপর একে একে আউট হন সাকিব আল হাসান এবং রিশাদ হোসেন ও তাসকি আহমেদ। ১১৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে তখন পরাজয়ের শঙ্কা লাল-সবুজের দলে। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে জয়ের স্বাদই দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সাইলেট কিলার খ্যাত এই ফিনিশার উনিশতম ওভারে দাশুন শানাকার করা প্রথম বলে ৬ মেরে চাপমুক্ত করেন দলকে। এরপর একই ওভারের শেষ বলে দৌড়ে দুই রান নিয়ে দলকে জয়ী করেন তিনি। বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়।