এস.এম বিজয় চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরা :: রাজধানীর উত্তরা ১১নং সেক্টরের ১৮নং রোডের একটি সাততলা ভবনে এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৬জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অন্তত ১৩জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে আগুনের সূত্রপাত হয়।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে তিনজন এবং একটি বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে দুজন মারা গেছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন: রোদেলা (১৪), লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। রোদেলার বাবার নাম শহিদুল এবং মায়ের নাম শিউলী আক্তার। মো. হারিছ উদ্দিন (৫২), মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি মৃত হাফিজ উদ্দিন ও সাহেরা খাতুনের ছেলে। মো. রাহাব (১৭), মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাবা হাফিজ উদ্দিন এবং মা রিনা। কুমিল্লা সদর উপজেলার নুনুয়া ও দিঘীরপাড় এলাকার একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মো. রিশান (বয়স: ২ মাস ৫ দিন)— ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তার বাবার নাম ফজলে রাব্বি রিজভী এবং মা আফরোজা আক্তার সুবর্ণা। আফরোজার (৩৭) মৃত্যু হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আর ফজলে রাব্বি (৩৮) মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তাঁর বাবার নাম কাজী খোরশেদুল আলম এবং মায়ের নাম ফেরদৌস আরা।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। চার মিনিট পর, অর্থাৎ ৭টা ৫৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসে খবর পৌঁছায়। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয় এবং সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টা শেষে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে।
আফরোজার মামাতো ভাই মো. আবু সাইদ জানান, ফজলে রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারক এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কর্মরত। আর তাঁর স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। তাঁদের দুই ছেলে ফাইয়াজ ও রাফসান।
তিনি জানান, স্বামী-স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় তাঁদের দুই ছেলে উত্তরাতেই নানির বাসায় থাকত। আজ শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন হওয়ায় গতরাতেই ছোট ছেলেকে নানির বাসা থেকে মায়ের বাসায় নিয়ে আসেন। আজ সকালে ওই বাসায় আগুনের সংবাদ পান স্বজনেরা।
আফরোজার বোন আফরিন জাহান জানান, আফরোজাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের বাকি দুজনের মরদেহ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সবাই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। শরীরে কোথাও দগ্ধ হয়নি।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আফরোজাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে তাঁর শরীরে কোনো পোড়া ক্ষত নেয়। ধোয়ায় অসুস্থ হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সংবাদ জানার সঙ্গে সঙ্গে মরদেহ আবার উত্তরা নিয়ে চলে যায়।