কুমিল্লা (দেবিদ্বার) প্রতিনিধি:: কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী আলমগীর হোসেনের অনুপস্থিতিতে একটি মুলতবি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম ভিত্তিহীন দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বিজয় কুমার দত্তকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ সিদ্ধান্তের পরপরই বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোহনপুর গ্রামকে ‘বাটপারের গ্রাম’ বলে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেছেন, যা গ্রামের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষক কোনো অনিয়ম করে থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু সেই অজুহাতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা যাবে না। অতীতে এক প্রধান শিক্ষকের মামলার কারণে বিদ্যালয়কে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে—এ অভিজ্ঞতা আমরা ভুলিনি।
তারা আরও বলেন, এই বিদ্যালয় শিক্ষা বোর্ড নয়, চার গ্রামের মানুষের শ্রম ও ত্যাগে প্রতিষ্ঠিত। তাই গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে নয়, চার গ্রামের মানুষদের মতামত নিয়েই নিতে হবে। অন্যথায় মোহনপুর ইউনিয়নের জনগণ তা মেনে নেবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও নিয়ম মেনেই প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য চার দিন সময় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিনিয়র শিক্ষক বিজয় কুমার দত্তকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা অনুযায়ী, ৪৪ ধারার ৬ উপধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে—মুলতবি সভায় কোনো শিক্ষককে নিয়োগ বা বহিষ্কার করা যাবে না। এ বিধান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলেও দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক কাজী আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সভাপতি খোরশেদ আলম ও সিনিয়র শিক্ষক বিজয় কুমার দত্ত মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আমাকে সরানোর ষড়যন্ত্র করছেন। নিয়ম বহির্ভূত এ সিদ্ধান্ত এলাকাবাসী কখনোই মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রবিধানমালায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে—মুলতবি সভায় কোনো শিক্ষককে বহিষ্কার করা যায় না। তারপরও আমাকে সরানোর পায়তারা চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে বিবেচনায় নিয়ে সকল পক্ষের সম্মতিক্রমে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড যেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।