স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মজিবুর রহমানকে মনোনীত করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার ঢাকায় জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই কালিয়াকৈরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়—শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের মাধ্যমে সমর্থকেরা সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় থাকা মজিবুর রহমানকে প্রার্থী করায় তৃণমূল নেতাদের মধ্যে দেখা গেছে বাড়তি উচ্ছ্বাস।
এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইদুল আলম বাবুল এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে, গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ব্যারিস্টার চৌধুরী ইসরাক আহমেদ সিদ্দিকী। তাদের দুজনকে ঘিরেও এলাকায় ছিল তীব্র আগ্রহ ও আলোচনা। তবে শেষ পর্যন্ত দলের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে মজিবুর রহমানই কালিয়াকৈরের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান।
মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় মজিবুর রহমান বলেন, “দল আমার দীর্ঘদিনের শ্রম, ত্যাগ ও নির্যাতন-নিপীড়নের মূল্যায়ন করেছে। ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থেকেছি, দমন-পীড়ন সহ্য করেছি। আজ দলের হাইকমান্ড, বিশেষ করে তারেক রহমান ও মহাসচিবসহ সকল নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েই ধানের শীষকে বিজয়ী করব।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। তার সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হেভিওয়েট দুই প্রার্থী বাবুল ও ইসরাক সিদ্দিকী মনোনয়ন না পাওয়ায় তাদের অনুসারীদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হবে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তৃণমূল বিএনপি নেতাদের বক্তব্য স্পষ্ট—দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, এবং ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবে। তাদের ভাষায়, ১৭ বছর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে বিএনপি বুঝে গেছে—ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
দলে ঐক্য বজায় রেখে নির্বাচনের মাঠে শক্ত অবস্থান নিতে কালিয়াকৈরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। গাজীপুর-১ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে; শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ ও সম্ভাবনার আলোচনা।
উল্লেখ্য, গাজীপুরের চারটি আসনে বিএনপি আগেই মনোনয়ন ঘোষণা করেছিল, তবে গাজীপুর-১ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। আজকের ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেটিও সম্পন্ন হলো।