নিজস্ব প্রতিবেদক :: পুলিশের প্রাইমেসি প্রতিষ্ঠার জন্য ভোটকেন্দ্রে নির্বিঘ্নে ভোট দেয়া নিশ্চিত করার জন্য অথরটি চাইলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, গ্রেফতার করলে যদি থানা ঘেরাও করে বসে থাকেন তাহলে আমার অথরিটি কোথায়? যদি অন্যায় করি তাহলে ধরেন আমাকে। কিন্তু ন্যায় কাজটা আমাকে করতে দেন।’ আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তার সাথে ছিলেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ভোট দেয়ার নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরিতে পুলিশ কতটুকু প্রস্তুত- সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘আমি পুলিশের প্রাইমেসি প্রতিষ্ঠার জন্য ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রাখার জন্য, নির্বিঘ্নে ভোট দেয়ার জন্য যে পরিবেশ তৈরি করতে হবে, তার জন্য তো আপনি আমাকে অথরিটি দিবেন? এখন অ্যারেস্ট করলে আপনি ঘেরাও দিয়ে বসে থাকবেন, যে থানা থেকে তাকে ছাড়তে হবে? তাহলে তো আই ডুনট হেভ এ অথরিটি? আমি এটা চাই সবার কাছে। আপনাদের কাছ থেকে এটা চাই। যদি অন্যায় করি তাহলে ধরেন আমাকে। কিন্তু ন্যায় কাজটা আমাকে করতে দেন।’
ডেভিল হান্ট-২ অপারেশনে বাধা পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইজিপি বলেন, ‘আমরা ১৩ ডিসেম্বর থেকে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ টু শুরু করেছি। এ ব্যাপারে আমাদের অনেক সমালোচনাও আছে। অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অনেক প্রার্থী তারা বলছেন যে আপনার পুলিশ আমার কর্মীকে অ্যারেস্ট করেছে। আমি নির্বাচনে কাজ করতে পারছি না। আমরা চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব অবজেকটিভলি কাজ করতে। যিনি প্রটেনশিয়ালি একজন রিস্কি থ্রেট, যিনি প্রটেনশিয়াল থ্রেট, ফর দিস ইলেকশন। আমরা চেষ্টা করছি তাকে আইনের আওতায় আনতে। তাকে গ্রেফতার করতে অথবা যদি কারো নামে মামলা থাকে এবং তিনি অপরাধী হন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ইলেকশনের বিষয়ে পুলিশকে ট্রেনিং দেয়ার কারণ উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘আমাদের নানামুখি তৎপরতা আছে আমরা পুলিশকে এক ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, এই ইলেকশনটাকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ইলেকশন করার জন্য কখনো পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়নি। কারণ এর আগের ১৫ বছরে অনেক পুলিশ নতুনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। এবং আগের পনের বছরের যে ইলেকশনগুলো ওনারা দেখেছেন, সেগুলোর ওপরে মানুষের আস্থা নাই। সেকারণে নির্বাচনে কিভাবে কাজ করতে হবে সে নিয়ে সকল পুলিশের স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। সেটা আমরা চেষ্টা করেছি এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যকে আমরা প্রশিক্ষণ দেয়ার টার্গেট নিয়েছি। গতকাল (৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত আমরা ১ লাখ ৩৩ হাজার জনকে সেটা আমরা দিতে পেরেছি। আগামী ২০ তারিখের মধ্যে সবাইকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাপ্ত করতে পারবো।’
এর আগে তিনি সেখানকার শৈলি ভবনে রংপুর মহানগর পুলিশ কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। পরে পুলিশের মেসে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নির্বাচন নিয়ে বৈঠক শেষে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে নির্বাচনবিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।