October 15, 2026, 1:37 pm

নীলফামারীর জনপ্রিয় শিল্পী ফারুক ভূঁইয়ার ইন্তেকাল

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, October 15, 2026
  • 23 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নীলফামারী :: ‘বাংলাদেশের মাইনষিগিলা তোমাক দেওছো নিমন্ত্রণ, নীলফামারী একবার বেড়ে যাও। আলু বাইগন তরকারি, শিদল পুড়ি ভর্তা করি একবার খায়া যাও।’ ভাইরাল সেই লোকসঙ্গীতটি নুতন করে আর শোনা যাবে না নীলফামারীর জনপ্রিয় শিল্পী ফারুক ভূঁইয়ার কণ্ঠে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)।
তার নিজের লেখা গানটিতে সুর করেছেন খ্যাতিমান ভাওয়াইয়া শিল্পী মহেশ চন্দ্র রায়। ১৯৮৯ সালে বিটিভির অন্তরঙ্গ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে ফারুক ভূঁইয়ার কণ্ঠে প্রথম গানটি প্রচারিত হয়। সে থেকে এলাকার মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে গানটি। এরপর তিন দশকের বেশি সময় পার হলে আজও এলাকার মানুষের কাছে অমর হয়ে আছে তার কণ্ঠ। ফারুক ভুঁইয়া স্টেজ প্রোগ্রামের পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন।
তার কণ্ঠে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে— ‘হাজরা বিবির কান্দন শুনলে দুঃখে কইলজা যায় ফাটি’; ‘দেওয়ানা দেওয়ানা আমি দেওয়ানা হইলাম রে; আছির বাবার লাগি আমি দেওয়ানা হইলাম রে’ এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গিতিকার সুরকার ছিলেন তিনি।
প্রতিভাবান এ শিল্পী নিজ উদ্যোগে নীলফামারীতে কিংবদন্তি শিল্পী প্রয়াত ফিরোজ সাঁই ও পিলু মমতাজ স্মৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ওই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন গুণী শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান করেছেন।
চলতি বছরের ২৯ আগস্ট নীলফামারী শহীদ মিনারে ওই স্মৃতি সংসদের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান করেন তিনি। ​সংগীতের প্রতি তার আজীবন নিবেদন ছিল অতুলনীয়। চলতি বছরের ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে অনুষ্ঠিত একটি কালজয়ী গানের অনুষ্ঠানে তিনি গান পরিবেশন করেছিলেন। তার সহকর্মীদের দেয়া তথ্য মতে, এটিই ছিল তার জীবনের শেষ স্টেজ শো।
ফারুক ভূঁইয়া ১৯৬৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নীলফামারী পৌরসভার হারোয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা মরহুম আব্দুল গণি ভূঁইয়া। তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। চার ভাইয়ের সবার ছোট ছিলেন ফারুক ভূঁইয়া। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।
​পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর তাকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে হৃদরোগ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর ছয়টার দিকে ইন্তেকাল করেন। বুধবার বাদ মাগরিব নীলফামারী কলেজ স্টেশন আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজা শেষে নীলফামারী পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর