মো: মুর্শিকুল আলম:: তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। কিন্তু এই শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গরম পোশাক কিনতে বিভিন্ন দোকানে ভীর দেখা গেছে। শপিংমল ও বড় বড় মার্কেটগুলোতে তুলনামূলক বেশি দামের কারণে সাধারণ মানুষ ঝুঁকছেন ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোর দিকে। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাত দখল করে অসংখ্য অস্থায়ী দোকানে শীতের পোশাক বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। টঙ্গী বাজার, চেরাগআলী, সফিউদ্দিন মার্কেট, হোসেন মার্কেট, কলেজ গেইট, টঙ্গী পৌরসভার সামনে, ফকির মার্কেট, সাতাইশ, গাজীপুরা, বোড বাজার, বড় বাড়ি, চান্দনা চৌরাস্তা, জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন দোকানের সংখ্যা বেশি চোখে পড়ে। টঙ্গী বাজার এলাকায় শীতের পোশাক কিনতে এসেছেন মো: আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, বড় মেয়ের শীতের পোশাকের আবদার ছিল। মহল্লার দোকানগুলোতে দাম বেশি চাওয়ায় এখানে এসেছি। তবে এখানে এসে দেখছি দাম খুব একটা কম নয়। তবু দোকান বেশি থাকায় পছন্দ অনুযায়ী কেনা যায়। ফুটপাতে মেয়েদের পোশাকের তুলনায় ছেলেদের শীতবস্ত্রের দোকানই বেশি দেখা গেছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্যও নানা ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব অস্থায়ী দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন।
ছেলেদের শীতের পোশাকের মধ্যে রয়েছে সোয়েটার, জ্যাকেট, কানটুপি, মাফলার, হুডি, ব্লেজার ও প্যান্টসহ নানা ধরনের গরম কাপড়। শীতের তীব্রতায় এসব ফুটপাতের দোকান এখন নগরবাসীর জন্য ভরসার জায়গায় পরিণত হয়েছে। গুলিস্তান এলাকায় ছেলেদের ব্লেজারের রমরমা বেচাকেনা দেখা গেছে। এখানে নতুন রেডিমেড ব্লেজার সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়াশ করা পুরোনো ব্লেজার পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ টাকায়।
ব্লেজার ব্যবসায়ী রকিফুল ইসলাম বলেন, শীত বাড়ায় ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। তবে ক্রেতারা ভালো মানের পণ্যের ন্যায্য দাম দিতে চান না। তিনি দাবি করেন, যে মানের ব্লেজার তারা যে দামে বিক্রি করছেন, তা দেশের অন্য কোথাও সম্ভব নয়। অনেক ব্যবসায়ী এখান থেকে ব্লেজার কিনে নিয়ে শোরুমে বেশি দামে বিক্রি করেন। অথচ ফুটপাতে ভালো মানের পণ্য হলেও ক্রেতারা দরদাম করে দাম কমাতে চান।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার ব্লেজারের দাম বেশি রাখা হচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়ায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে তাদের দাবি। বাধ্য হয়েই বেশি দামে পোশাক কিনতে হচ্ছে।
এদিকে শীতের পোশাকের পাশাপাশি কম্বল ও কমফোর্টারের বিক্রিও জমে উঠেছে। ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায় বিভিন্ন ধরনের কম্বল বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের কমফোর্টার।