March 3, 2024, 9:21 am

দুই বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, August 27, 2023
  • 38 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :: নিজেদের ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ বলে উল্লেখ করে বক্তব্য দেওয়ায় আপিল বিভাগের দুই বিচারকের পদত্যাগ দাবি করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। অন্যথায় নতুন কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তারা। আজ রবিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে ফোরামের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটাম দেন বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কায়সার কামাল বলেন, ‘গত ১৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক আয়োজিত শোকসভায় আপিল বিভাগের দুজন বিচারকের বক্তব্য বিচারপতি হিসেবে নেওয়া শপথের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সাধারণত কোনও রাজনৈতিক কর্মী যে ভাষায় তার দলীয় বক্তব্য প্রদান করেন, অনেক বিচারপতির বক্তব্যে তেমন রাজনীতিবিদের বক্তব্যের প্রতিফলন আমরা লক্ষ করেছি। তাদের এই বক্তব্য কোনও বিচারেই বিচারক সুলভ নয়।’

এই বিচারকদের এতদিনের বিচারকার্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘যারা মানসিকভাবে নিজেদের রাজনীতিবিদ বলে বিবেচনা করেন, সেই মাননীয় বিচারকদের মাধ্যমে অতীতে কতটুকু ন্যায়বিচার সম্পন্ন হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। ভবিষ্যতেও তারা বিচারিক কার্য পরিচালনা করলে কী ধরনের বিচার করবেন; তা বলাই বাহুল্য। এক্ষেত্রে আমরা মনে করি, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান হিসাবে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন।’

আপিল বিভাগের দুজন বিচারপতি ‘শপথ ভঙ্গের মাধ্যমে’ বিচার কাজ পরিচালনার আইনি ও নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন উল্লেখ করেন তিনি। তাই প্রধান বিচারপতি স্ব-উদ্যেগে তাদের বিচারিক কাজ থেকে বিরত রাখবেন, এমন দাবিও করেন তিনি।

বর্তমান বিনা ভোটের সরকারের রোষানলে পড়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দেশত্যাগ ও পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে অভিযোগ করে কায়সার কামাল বলেন, বর্তমানে কথিত ‘অজানা’ অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগের তিন জন বিচারপতিকে বিচারকার্য থেকে প্রায় পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে বিরত রাখা হয়েছে।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে নির্বাচিত কোনও কমিটির অস্তিত্ব নাই, একটা এডহক কমিটি আছে, তারাও আমাদের সঙ্গে আছেন। এখন কেউ যদি বার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে, সেটা হলো অবৈধ সরকার যেভাবে গণভবনে বসে আছে জোর করে, তারই ধারাবাহিকতায় বারেও তারা ডাকাতি করে বসে আছেন। তাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও প্রশ্নের জবাব আমরা দিবো না।’ 

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এটা দুঃখজনক। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, আমরা নাকি সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা নষ্ট করার চেষ্টা করছি। আমরা বলতে চাই, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা নষ্ট করেছেন। আব্দুল মতিন খসরু মারা যাওয়ার পরে ভোটারবিহীনভাবে তিনি এই সভাপতির পদ জোরজবরদস্তি করে দখল করেছিলেন। তার মুখে এসব কথা মানায় না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদন, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী কামরুল ইসলাম সজলসহ বিএনপির শতাধিক আইনজীবী।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর