স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অপহরণের পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী এবং ৪ দিন পরে বাড়ির পাশে কলাবাগান থেকে সাড়ে ৬ বছরের শিশু তামিমের লাশ উদ্ধার। এ ঘটনায় হত্যা মামলার মূলহোতাসহ দুইজনকে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
র্যাব জানায়, ভিকটিম সানজিদুল ইসলাম তামিম (৬) কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ আইনুদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় পড়াশুনা করতো এবং পিতা মোঃ নাজমুল হোসেন (৩০) এর এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে তামিম তাদের পরিবারের বড় সন্তান ছিল। ভিকটিমের পিতা তার পরিবার নিয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ এলাকায় বসবাস করতেন এবং প্লাস্টিকের ববিন কাটার ব্যবসা করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় গত ৭ জুলাই সন্ধ্যায় আনুমানিক ৬ঘটিকার সময় সানজিদুল ইসলাম তামিম বাসায় ফিরে না আসায় তার পরিবারের লোকজন আশেপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। পরে কোনাবাড়ী থানায় একটি জিডি করেন। পরবর্তীতে গত ৮জুলাই সকালে ভিকটিমের পিতার মোবাইলে অজ্ঞাতনামা একজন ফোন করে জানায় যে, সানজিদুল ইসলাম তামিম তাদের হেফাজতে আছে এবং তাদেরকে ১০লক্ষ টাকা নগদ প্রদান করলে তারা তাকে ছেড়ে দিবে। এ খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজন অজ্ঞাতনামা অপহরণকারীদেরকে টাকা দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ বাইপাস এলাকায় গেলেও অপহরণকারীরা তাদের সাথে দেখা করে না।
গত ১০ জুলাই দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার সময় কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ মধ্যপাড়া এলাকায় কলাবাগানের ভিতর একটি শিশুর পঁচা গন্ধযুক্ত মৃতদেহ পড়ে আছে দেখে আশেপাশের লোকজন থানায় খবর দেয়। এ সময় তামিমের বাবা ও কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ সনাক্ত করে। পরবর্তীতে, ভিকটিমের পিতা মোঃ নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে গাজীপুর কোনাবাড়ী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
তারই ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুলাই দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত র্যাব-১ ও র্যাব-১৪ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানাধীন কদুরবাড়ী বাজার এলাকা হতে হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী ১। মোঃ হাসান মিয়া (২০), পিতা-মৃত মজনু মিয়া, সাং-পাউরিতলা, থানা-মুক্তাগাছা, জেলা- ময়মনসিংহ এবং তার দেয়া তথ্যমতে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানাধীন কুশকান্দা এলাকা হতে উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ভিকটিমের চাচাতো ভাই ২। মোঃ সাগর মিয়া (২২), পিতা-ইস্কান্দার মিয়া, সাং-কুশকান্দা, থানা- ফুলপুর ও জেলা-ময়মনসিংহ‘দেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামীদ্বয় ভিকটিম সানজিদুল ইসলাম তামিমকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এই চাঞ্চল্যকর হত্যার লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয়। আসামী দুইজন ভিকটিমের পিতা মোঃ নাজমুল হোসেন এর প্লাস্টিকের ববিন কাটার গোডাউনে চাকুরী করতো। তারা ঋণগ্রস্থ ছিল বিধায় মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ভিকটিমকে অপহরণের পরিকল্পনা করে।
সেই পরিকল্পনার অনুযায়ী গত ৭ জুলাই বিকাল ভিকটিম সানজিদুল ইসলাম তামিমকে তারই পিতার প্লাষ্টিকের ববিন কাটার গোডাউনের সামনে থেকে ফুসলিয়ে হাতি দেখানোর কথা বলে আসামীদের ভাড়াকৃত বাসায় নিয়ে যায়। ভিকটিমকে বাথরুমের ভিতর দড়ি দিয়ে হাত ও পা বেধে মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে আটক করে রাখে এবং মুক্তিপণের বিষয় নিয়ে উভয় আসামীদ্বয়ের মধ্যে সলাপরামর্শ হয়। একপর্যায়ে ভিকটিম আসামীদ্বয়ের পূর্ব পরিচিত হওয়ায় মুক্তিপণ পেলেও ভিকটিম তার পিতাকে উক্ত ঘটনা জানিয়ে দেয়ার ভয় থেকেই ওই দিন রাতে বাথরুমের ভিতর আসামী ভিকটিমের চাচাতো ভাই মোঃ সাগর মিয়া (২২) ভিকটিমের পা চেপে ধরে এবং অপর আসামী মোঃ হাসান মিয়া (২০) ভিকটিমের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। তারপর কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ মধ্যপাড়া এলাকায় একটি কলাবাগানের ভিতরে অত্যন্ত সু-কৌশলে গত ৭ জুলাই রাতের আধারে লাশ গুম করে এবং গত ৮ জুলাই ভিকটিমের পিতার কাছে আসামী মোঃ হাসান মিয়া (২০) ফোন করে জানায় ভিকটিম সানজিদুল ইসলাম তামিম তাদের হেফাজতে আছে। তাদেরকে ১০ লাখ টাকা নগদ প্রদান করলে তারা ভিকটিমের পিতার কাছে তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের লোকজন টাকা দেওয়ার জন্য পুলিশের সহায়তায় ৮ জুলাই আসামীদের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী ময়মনসিংহ বাইপাস এলাকায় যায়। কিন্ত আসামীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সাথে সাক্ষাৎ না করে সুকৌশলে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জিএমপি গাজীপুর কোনাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।