April 16, 2024, 11:09 pm

অভিজাত এলাকায় ভুয়া ডাক্তার-নার্স পরিচয়ে চুরি পাঁচজন গ্রেফতার

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, April 6, 2023
  • 196 জন দেখেছে

 দৈনিক বিজয়বাংলা ডেস্ক :: জাহেদুল ইসলাম পেশায় ব্যবসায়ী। থাকেন গুলশান-১ নম্বরের তিন নং সড়কের কেএফসি গলিতে। গত ২৫ জানুয়ারি সকালে ভবনের সাততলা থেকে স্কুলগামী মেয়েকে নামিয়ে দিতে বের হন। মেয়েকে স্কুলের গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরতে সময় লেগে যায় তিন থেকে সাড়ে তিন মিনিট। এরমধ্যেই তার বাসা থেকে চুরি হয়ে যায় একটি ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল।

পুলিশ জানায়, পুরো বাসা তন্নতন্ন করে খুঁজে না পেয়ে সিসিটিভি ফুটেজ তল্লাশি করে দেখেন, ডাক্তার ও নার্সদের অ্যাপ্রন, মুখে মাস্ক এবং গলায় ভুয়া আইডি কার্ড পরিহিত এক তরুণী বাসায় প্রবেশ করেছিল।

তরুণীর পরিচয় সম্পর্কে বাসার দারোয়ান জানায়, ওই তরুণী নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়েছিল। বলেছিল ফিজিওথেরাপিস্ট। ভবনের সাতলায় জাহেদুল ইসলামের মা অসুস্থ। তাকে থেরাপি দেওয়ার জন্য তিনি এসেছেন। এ পরিচয় দেওয়ায় বাসায় প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় দেরি না করে গুলশান-১ থানায় অভিযোগ করেন। পরে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রমে গুলশান থানা পুলিশ জানতে পারে অভিজাতপাড়ায় রোমহর্ষক চুরির ঘটনা। পরে গুলশান থানাধীন ২ নং পুলিশ চেকপোস্টের সামনে থেকে তথাকথিত চিকিৎসক নামে চোরচক্রের প্রধান আফসানা আক্তার এশা ওরফে মিমকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডিএমপির গুলশান বিভাগ পুলিশ জানিয়েছে, ডাক্তার ও নার্সদের অ্যাপ্রন, মুখে মাস্ক এবং গলায় ভুয়া আইডি কার্ড পরে অভিজাতপাড়ায় অভিনব কায়দায় চুরি করে আসছিল মিম। মূলত ভুয়া চিকিৎসকের বেশ ধরে বাসায় প্রবেশ করে চুরি করে আসছিল সে। এমন তথ্য পাওয়ার পর কথিত চিকিৎসক আফসানা আক্তার এশা ওরফে মিমসহ সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় চুরি যাওয়া ৬টি ল্যাপটপ, ১০টি মোবাইল ফোন ও ২টি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- তন্ময় বিশ্বাস (৩০), স্বপন শেখ (৪৫), নুরুল ইসলাম (২৭), কলিম উদ্দিন কালু ওরফে কলিউল্লাহ (৪০) এবং মোখলেছুর রহমান (৫১)। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার(ডিসি) মো. আ. আহাদ। আমরা একটি চুরির তদন্ত করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার তথ্য পাই। চোরচক্রের প্রধান মিম খুবই ধূর্ত। তার এহেন অপকর্মের প্রধান সহযোগী গ্রেপ্তার বয়ফ্রেন্ড তন্ময়।

ডিসি আ. আহাদ বলেন, কোনো বাসায় চুরির আগে রেকি করে চোরচক্রের সদস্যরা। বিশেষ করে খোঁজ রাখে কোন বাসায় অসুস্থ, বৃদ্ধ বাসিন্দা আছে। কোন বাসায় কখন মানুষ কম থাকে, কখন কারা বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যায়। তবে সকালের সময়টা চুরির জন্য টার্গেট করে তারা। রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকা তাদের প্রধান টার্গেট। এসব এলাকায় এমনও দিন গেছে একাধিক চুরি সংঘটিত করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রের প্রধান মিম যোগসাজশে কখনো ডাক্তার, কখনো নার্স পরিচয় দিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন। মাত্র ২/৩ মিনিটের মধ্যে ফাঁকা বাসা বা অসুস্থ বাসিন্দার উপস্থিতিতেও মোবাইল ল্যাপটপ নিয়ে সটকে পড়েন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম বলেন, তাজ্জব হয়ে গেছি, এভাবেও চুরি হতে পারে। আমার বাসা অনেক নিরাপত্তাবেষ্টিত। বাসার দারোয়ান, সিসিটিভি, সবই ছিল। আমার মা অসুস্থ। তাকে মাঝেমধ্যে থেরাপি দিতে হয়। সেই তথ্য বলে ফিজিওথেরাপিস্ট পরিচয়ে বাসায় ঢোকে চোর মিম। মাত্র তিন মিনিট বাসায় ছিলাম না। এরমধ্যে মোবাইল ল্যাপটপ নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় চোর।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর