June 24, 2024, 12:38 am

খালেদা জিয়া ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল ছাত্রলীগের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • আপডেট Friday, September 1, 2023
  • 125 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :: বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত ছাত্রসমাবেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অশিক্ষিত ও মূর্খদের হাতে ক্ষমতা গেলে দেশের কোনো অগ্রগতি হয় না। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত উন্নয়ন করেছিলাম। কিন্তু খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিল। খালেদা জিয়া ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল আর আমি ছাত্রলীগের হাতে কলম ও বই তুলে দিয়েছি। তাদেরকে বলেছি তোমরা পড়াশোনা করো। আজ শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাত্রলীগের ছাত্রসমাবেশের মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ছাত্রলীগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ দুর্যোগ-দুর্বিপাকে এগিয়ে আসে। ওয়ান-ইলেভেন, কোভিড-১৯-এ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বন্যা, খরা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ছাত্রলীগ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। ছাত্রলীগ মানুষের ধান কেটে দেয়। তাই ছাত্রলীগের প্রতি আমার অনেক বিশ্বাস, অনেক আস্থা। তারুণ্যের শক্তি একদিন এগিয়ে নিয়ে যাবে।

খুনিদের কাছে জীবন ভিক্ষা চাননি বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকেও হত্যা করা হয়। যিনি সব সময় আমার বাবার পাশে ছিলেন। পাশে থেকে আমার বাবাকে সব সময় অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা দেশের মুক্তি জন্য সংগ্রাম করছেন সেটা আমার মা খুব ভালো করেই জানতেন। তাই প্রতিটি কাজেই তিনি সহযোগিতা করে গেছেন। আর সেই ৭৫ সালে মৃত্যুকালেও তিনি তার সাথী হলেন। জীবন ভিক্ষা চাননি, খুনিদের প্রতিহত করেছেন তাকেও ঘাতকরা ছাড় দেননি।

তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, তার ডাকে সাড়া দিয়ে অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় নিয়ে আসে এই বাঙ্গালী জাতি। আমাদের ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের মধ্যে অনেকের প্রাণ গেছে। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাই হয়েছিল মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির জন্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার সারা জীবনের সংগ্রাম ছিল বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবেন। বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি অর্জন ছিল তার লক্ষ্য।

এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভোট চুরির বিরুদ্ধে খেলা হবে। দুনীতির বিরুদ্ধে, অর্থপাচারের বিরুদ্ধে, হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে খেলা হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতা থেকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র চলছে। বিদেশি মুরব্বিদের ডাকছে শেখ হাসিনাকে হঠাও। নিষেধাজ্ঞা ও ভিসানীতি প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। আজ বাংলাদেশে স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে। এটা কার অবদান? সারাদেশে বিদ্যুত নিশ্চিত করেছে কে? এক সময় এ দেশ অন্ধকারে ছিল।

কাদের আরও বলেন, শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের স্থান দিয়ে মানবতার মা হিসেবে ভূষিত হয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় পলিটিশিয়ান শেখ হাসিনা। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণদের দিকনির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেবেন বলে জানান আয়োজকরা। সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদ শেখ ইনানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।

এর আগে শুক্রবার বেলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিভিন্ন গেটের সামনে জড়ো হতে থাকেন। মিছিল-স্লোগানে টিএসসি গেইট, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গেট, বাংলা একাডেমির সামনের গেইটসহ পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে।

এদিকে ছাত্রসমাবেশ ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছে র‌্যাব। যানবাহন চলাচলে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর